লক্ষ্মীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়ালের নির্দেশেই পল্লবীর সিরামিক রোডে নিজ বাড়ির সামনে শাহীন উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ মামলায় গ্রেফতার মুরাদ রিমান্ডে এমন তথ্যই জানিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, পল্লবীতে এম এ আউয়ালের সঙ্গে শাহীন উদ্দিনের জমি দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জের ধরে তিনি ভাড়াটিয়া কিলার গ্রুপ দিয়ে শাহীন উদ্দিনকে খুনের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী মুরাদ, মানিক ও মনির চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে শাহীন উদ্দিনকে হত্যা করে। হত্যা ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। দুই যুবক চাপাতি দিয়ে শাহীন উদ্দিনকে উপর্যুপরি কোপাচ্ছে—এমন দৃশ্য ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়। তবে ঐ ভিডিও ফুটেজে গ্রেফতারকৃত মুরাদকে দেখা যায়নি। পুলিশ বলছে, মুরাদই প্রথম চাপাতি দিয়ে শাহীনকে কুপিয়েছে। মানিক ও মনিরকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।
গত রবিবার বেলা ৩টার দিকে পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ৩১ নম্বর রোডে সাত বছরের সন্তানের সামনে শাহীন উদ্দিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আকলিমা বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পরদিন পুলিশ মুরাদকে গ্রেফতার করে।
পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, এলাকায় জমির দখল নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতের বিরুদ্ধেও প্রতিপক্ষরা এর আগে মামলা দায়ের করেছিল। আবার এম এ আউয়ালের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। তবে ঘটনার দিন যারা শাহীনকে হত্যা করেছিল, তারা ভাড়াটিয়া কিলার গ্রুপের সদস্য। এর আগেও পুলিশের হাতে মুরাদ গ্রেফতার হয়েছিল। মুরাদের অপর দুই সহযোগী মানিক ও মনিরও পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিল।
হত্যা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পল্লবী থানার ওসি বলেন, ঐদিন বিকালে শাহীন উদ্দিন তার ছেলে মাশরাফিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরছিলেন। এমন সময় কেউ একজন শাহীনকে ফোন করে ৩১ নম্বর রোডে দেখা করার কথা বলে। সেখানে পৌঁছালে মাশরাফিকে মোটরসাইকেল থেকে তার বাবা নামিয়ে দেয়। এরপর এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় ঐ ব্যক্তি লাথি মেরে শাহীনকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। এরপর মুরাদ ঐ ব্যক্তিকে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। পরে মানিক ও মনির চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। মুরাদ পল্লবীর ডি ব্লকের ২৭/এ নম্বর রোডের ৬/৭ নম্বর বাড়িতে থাকে। তার বাবার নাম মফিজুর রহমান।