টাইটানিকের রেপ্লিকা বানাচ্ছে চীন

আটলান্টিক মহাসাগরের অতলে ডুবে যাওয়া ঐতিহাসিক যাত্রীবাহী জাহাজ টাইটানিকের অবিকল একটি রেপ্লিকা বানাচ্ছে চীন। সিচুয়ান প্রদেশের দায়িং কাউন্টির এক থিম পার্কে নির্মাণ চলছে এই বিশাল রেপ্লিকার। অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো করে ফিরে আসছে টাইটানিক।

সংবাদ মাধ্যম ডয়চেভেলের বরাতে জানা যায়, ২৬০ মিটার লম্বা এবং ২৮ দশমিক ১৯ মিটার প্রস্থের হবে। এই রেপ্লিকার মাধ্যমে মানুষ আসল টাইটানিকের যাত্রী হওয়ার মতো অনুভূতি নিতে পারবে। রোমানদিসা থিম পার্কে স্থাপন করা হবে এই জাহাজটি। মূল জাহাজে যে পরিমাণ খাবার হল, থিয়েটার, পর্যবেক্ষণ ডেক এবং সুইমিং পুলি ছিল রেপ্লিকাতেও তাই থাকবে। কিউজ্যাং নদীর একটি জলাধারে রেপ্লিকাটি স্থায়ীভাবে রাখা থাকবে। সেখানে যাত্রীরা ২ হাজার চীনা মুদ্রা ইউয়ানের বিনিময়ে এক রাত অবস্থানের সুযোগ পাবেন। তবে রেপ্লিকাটি কবে নাগাদ খুলে দেওয়া হবে তা এখনো জানা যায়নি।

দেড় হাজার যাত্রীকে নিয়ে টাইটানিক এখনো ঘুমিয়ে রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে। ১০০ বছরের বেশি সময় কেটে গেছে। কিন্তু এতটুকু কৌতূহল কমেনি সুবিশাল আড়ম্বরপূর্ণ যাত্রীবাহী ঐ প্রমোদতরিকে নিয়ে। ইতিহাসের পাতা থেকে কখনো সিনেমার পর্দায়, কখনো স্মৃতিবিজড়িত জিনিসের নিলামে টাইটানিককে খুঁজে পাই আমরা। কিন্তু যদি সত্যি আবার পানিতে ভাসে ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ডুবে যাওয়া সেই টাইটানিক!  

২০১৬ সালে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপির এক ফটো প্রতিবেদনে নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখা গেছে। এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রেপ্লিকাটি নির্মাণে ২৩ হাজার টন স্টিল লাগছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ১০০ কোটি ইউয়ান। তবে টাইটানিকের রেপ্লিকা কেবল চীনই বানাচ্ছে না। ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি ব্লু স্টার লাইন টাইটানিক-২ বানানোর ঘোষণা দেয়। তবে সেই নির্মাণ কাজ এখন থমকে আছে। 

১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বন্দর থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে আসল টাইটানিক। ঐ সময় এটিই ছিল সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জাহাজ। ১৪ এপ্রিল মধ্যরাতে জাহাজটি একটি আইসবার্গের সঙ্গে ধাক্কা খায় আর এর তিন ঘণ্টার মধ্যে ডুবে যায়। মার্কিন সিনেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী টাইটানিক বিপর্যয়ে ১ হাজার ৫১৭ জনের মৃত্যু হয় আর বেঁচে যায় ৭০৬ জন।

ইত্তেফাক/এএইচপি