চিকিৎসক সংকটে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সংকটের মধ্যেও এখানকার চিকিৎসকরা ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট প্যাকটিসে। রয়েছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাব। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ৩১ শয্যার কার্যক্রমেও নানা সমস্যায় জর্জরিত। নামমাত্র চলছে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা শতশত মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ বলছেন, সেবার মান বাড়াতে নেয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ। বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা লোকজনের সাথে কথা বলে দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী আছিয়া বেগম (৪৫)। বাড়ি উপজেলার পোড়াগড় গ্রামে। তিনি জানান, তার প্রেসার ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুইদিন আগে ভর্তি হয়েছেন। তাকে প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন। ওষুধ কিনতে হবে বাইরে থেকে। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হইছি। কোনো ওষুধ পাই নাই। নার্সরা মাঝে মাঝে দেখে যায় ডাক্তার আসে না।
জানা যায়, ৩১ শয্যার শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাসপাতালটি ৫০ শয্যার উদ্বোধন হয়। দীর্ঘদিন পরেও ৫০ শয্যার হাসপাতাল চলছে ৩১ শয্যার। এখানে জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারিসহ সিংগাবরুনা, কাকিলাকুড়া, গোসাইপুর, শ্রীবরদী সদর, কুড়িকাহনীয়া ও গড়জরিপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে রাণীশিমুল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত সহকারী সার্জন ডা. মমিনুল ইসলাম ও তাতিহাটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তাজকিয়া তাসনিম আহমদ প্রেষণে রয়েছেন জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিয়াউল হক প্রেষণে রয়েছেন ঢাকা সিইউএসডি হাসপাতালে। গাইনি বিভাগের ডা. জোত্স্নারা খাতুন আসেন মাসে দুই একদিন। হোমিও ডা. ওয়াদুদ হক দীর্ঘদিন যাবত প্রেষনে হোসেনপুর ইউএইচসিতে কর্মরত। সূত্রমতে, ওইসব ডাক্তাররা যোগদানের পর অন্তত ২ বছর থাকার কথা থাকলেও তিন চার মাসও হাসপাতালে আসেন নাই। এছাড়াও নেই প্যাথলজিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফার। দুটি এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি একেবারে বিকল। অন্যটি চলে লক্করঝক্কর। এক্সরে মেশিনটিতে দেখা দিয়েছে ত্রুটি। ইসিজি মেশিনটিও নষ্ট।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ডাক্তার সংকটের কারণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট দিয়ে রোগিদের চিকিত্সা সেবা দেয়া হচ্ছে। এতে ডাক্তার সংকটের কারণে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরপরও আমরা চেষ্টা করছি আরো বেশি সেবা দেয়ার। তবে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিত্ রায় বলেন, প্রতিদিন গড়ে অর্ধশত রোগী আসেন ইনডোরে। আউটডোরে আসেন আড়াইশ থেকে ৩শ রোগি। আউটডোর এবং ইনডোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ রয়েছে। তবে যা আছে তা দিয়ে রোগীদের মান সম্মত সেবা দিতে আমরা চেষ্টা করছি।
ইত্তেফাক/এএম