ইসলামি ক্যালিগ্রাফি

আইয়্যামে জাহিলিয়াতে আরবেরা যুদ্ধবিদ্যা, অতিথিসেবা, পশুপালন, দেশভ্রমণ, আন্তদেশীয় ব্যবসায়-বাণিজ্য ইত্যাদিতে ছিল বিখ্যাত। ইতিহাসখ্যাত ‘উকাজের মেলা’ ছিল। কবিতা উত্সবের সর্বশ্রেষ্ট সাতটির স্থান হয়েছিল পবিত্র কাবার দেওয়ালে, যাকে বলে ‘সাবউল মুয়ল্লাকাত’। ছিল নববর্ষ ও ঘৌড়দৌড়ের দুটি উত্সব ‘নওরোজ’ ও ‘মেহেরগান’। তবে এগুলোতে ছিল না সুস্থ সংস্কৃতির ছোঁয়া! ইসলামি সংস্কৃতি মানব মননের সুকোমল অভিব্যক্তি বিকাশের পথে ভূগোল ও বিশ্বাসের সীমা ছাড়িয়ে পরিশীলিত ঐক্য ও বিবেকের জাগরণ ঘটায়। এক্ষত্রে আরবি-ইসলামি ক্যালিগ্রাফি অনন্য মর্যাদা পেয়েছে। ক্যালিগ্রাফি পবিত্র কুরআনের অলংকরণ, মসজিদ, স্থাপত্যশৈলী ও ইসলামি শিল্পসুষমার মূল্যবান চিত্ররূপ।

ক্যালিগ্রাফি শব্দটি ইংরেজি, যা গ্রিক ক্যালিগ্রাফিয়া থেকে উত্পত্তি। গ্রিক ক্যালোস (kallos) সুন্দর, গ্রাফেইন (graphein) লেখা শব্দদ্বয়ের সমষ্টি ক্যালিগ্রাফি বলতে বোঝায় Calligraphy is the art of producing decorative handwriting or lettering with a pen or brush.

ক্যালিগ্রাফিকে আরবিতে ‘খত আল আরব’, তুর্কিতে hattatlk ফার্সিতে ‘খোশনবিশি’ বলে (মোহাম্মদ আব্দুর রহীম :বাংলা ক্যালিগ্রাফি :অনুভব ও শৈলী)।

আরবি, ফার্সি ও তুর্কি-অটোমান ক্যালিগ্রাফি পবিত্র কোরআনের প্রচ্ছদ ও পৃষ্ঠা, মসজিদের দেওয়াল, সিলিং অথবা বই-পুস্তকের অলংকরণ-আকর্ষণ সৃষ্টিতে ব্যবহূত হয়। এগুলো শিল্পীর সৌন্দর্যবোধকে ধর্মীয় নান্দনিকতায় বিকশিত করে।

আরবি ক্যালিগ্রাফির দুটি প্রকার, প্রকরণ :ক. ট্র্যাডিশনাল বা ঐতিহ্যবাহী, যেমন অক্ষরকে দৃষ্টিনন্দন করা। খ. পেইন্টিং বা চিত্রকলা। এখানে রয়েছে :স্ক্রিপ্ট ক্যালিগ্রাফি (বই, নথি, ফরমান, মানপত্র ইত্যাদিতে অক্ষরের বিশেষ বিন্যাস) এবং ভিজ্যুয়াল ইমেজ ক্যালিগ্রাফি। ভিজ্যুয়াল ইমেজ ক্যালিগ্রাফিতে অক্ষর, বাক্য, বাণীর বিশেষ বিন্যাসের মাধ্যমে একটি চিত্ররূপ তৈরি করা হয়। ভিজ্যুয়াল ইমেজ ক্যালিগ্রাফি কোনো বস্তুর সঙ্গে মিল থাকতেও পারে, আবার না-ও থাকতে পারে। ক্যালিগ্রাফি আঁকতে কালি ও ক্যালিগ্রাফির জন্য তৈরি কলম, ব্রাশসহ নানান উপকরণ ব্যবহূত হয়। এতে কাগজ, কাপড় বা ক্যানভাসে শিল্প সৃষ্টির উপযোগ তৈরি হয়, যাকে মারবেলিং বলে।

আরবি ক্যালিগ্রাফির মূল পাঁচটি স্টাইল :Naskh, Nasta‘liq, Diwani, Thuluth, Ruq‘ah. এ ছাড়া আরবি ও ইসলামি ক্যালিগ্রাফিতে বহুল ব্যবহূত ফন্টের মধ্যে আছে :সুলুক, নাশখ, দিওয়ানি, তালিক, ফারসি, ইযাযা, কারামাতিয়ান কুফি, ইস্টার্ন কুফি, মাগরেবি কুফি, আন্দালুসিয়ান কুফি, বিহারি, বেঙ্গল তুগরা (সুলুক, নাশখ), রায়হানি, মুহাক্কাক, জালি সুলুস, জালি দিওয়ানি ইত্যাদি। অন্যদিকে আরবি ও ইসলামি ক্যালিগ্রাফিতে বহুল ব্যবহূত কলমকে বলে ‘কলম খাশাব’ ও ‘কলম বুস’।

lলেখক :বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ,

কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর