গাজায় যুদ্ধবিরতির কাছাকাছি হামাস ও ইসরাইল। চলমান সংঘাতের মধ্যেই হামাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইসরাইল ও গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী দু-এক দিনের মধ্যেই যুদ্ধবিরতিতে একমত হবে। তবে ইসরাইল যে যুদ্ধবিরতিতে রাজি তা এখনো জানায়নি। যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইল রাজি হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত বুধবার বলেছেন, ইসরাইলিদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গতকালও গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দেশটির হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না প্রতিবন্ধী এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীও। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও গাজায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত দশদিন ধরে গাজায় এবং ইসরাইলে যা ঘটেছে তা খুবই ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার
যুদ্ধবিরতির আভাস
ইসরাইল এবং হামাস যুদ্ধবিরতিতে রাজি বলে সূত্র জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইল সামরিক অভিযান বন্ধ করে যুদ্ধবিরতিতে রাজি বলে মিসরকে জানিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার সিকিউরিটি ক্যাবিনেটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে বৈঠকের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। ক্যাবিনেট যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে তা ২৪ ঘন্টার মধ্যে কার্যকর হবে বলে ইসরাইলের সরকারি টেলিভিশন জানিয়েছে। হামাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা মুসা আবু মারজুক লেবাননের আল মায়াদিন টেলিভিশনকে বলেছেন, আমি মনে করি যুদ্ধবিরতির জন্য বর্তমানে যে চেষ্টা হচ্ছে তা সফল হবে। আমি দু-এক দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর আশা করছি এবং যুদ্ধবিরতি হবে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে। তিনি এমন সময় এ মন্তব্য করলেন, যখন সহিংসতা বন্ধের জন্য ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ বাড়ছে। মিসরের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে, তবে আলোচনা এখনো চলছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চতুর্থবারের মতো ফোন করে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে সহিংসতা কমিয়ে আনার বার্তা দিয়েছেন। এর মধ্যে বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলে যুদ্ধবিরতির জন্য ফ্রান্সের আনা একটি প্রস্তাব আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল
গতকালও গাজায় হামাসের নানা স্থাপনার ওপর অন্তত ১০০ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে খান ইউনিস শহরে চার জন আহত হয়েছে। ইসরাইল বলছে, তারা হামাসের রকেট উেক্ষপণ সাইটে হামলা করেছে। ওদিকে ইসরাইলি শহর বীরসেবা ও গাজা সীমান্তবর্তী এলাকায় রকেট সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে রকেট হামলা করে এর জবাব দিয়েছে।
বাদ যাচ্ছেন না অন্তঃসত্ত্বা নারীও
বুধবার দুপুরের খাবার খেতে বসেছিলেন প্রতিবন্ধী ৩৩ বছর বয়সি এয়াদ সালহা। তার স্ত্রীরও একই বয়স এবং অন্তঃসত্ত্বা। তাদের তিন বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তারা যখন খাবার খাচ্ছিলেন, তখনই ইসরাইলি বিমান থেকে বোমা পড়ে তাদের ফ্ল্যাটে। এতে তিনটি কক্ষই ধ্বংস হয়ে যায়। তারা সবাই নিহত হন। এয়াদের ছোট ভাই ৩১ বছর বয়সি ওমর সালহা জানিয়েছেন, গত ১৪ বছর ধরে এয়াদ সালহা প্রতিবন্ধী। তিনি হাঁটতেও পারেন না। গত কয়েক দিনে ইসরাইলি বিমান হামলা ও হামাসের রকেট হামলায় অন্তত ৬৫ শিশু, ৩৬ নারীসহ ২৩২ জনের প্রাণ গেছে। হামাস অবশ্য তার যোদ্ধাদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। আর ইসরাইলে দুটি শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়েছে।