প্রধানমন্ত্রী মোদি সব মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করেছেন :মমতা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে মানছেন না। তিনি বৈঠক ডেকে সব মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

গতকাল বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদির ডাকা বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও মহারাষ্ট্র, কেরালা, উত্তর প্রদেশ, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, ওড়িশা, রাজস্থান, অন্ধ্র প্রদেশ ও পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রীরা ছিলেন। বৈঠক শেষে মমতা ব্যানার্জি সব মুখ্যমন্ত্রীর হয়েই মোদিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, হাতে প্রশ্ন নিয়ে পুতুলের মতো বসেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রীদের যদি বলতেই দেবেন না, তাহলে ডাকলেন কেন! জেলা প্রশাসকদের নিয়েই তো বৈঠক করতে পারতেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা একমুখী যোগাযোগ নয় বরং একমুখী অপমান।   প্রধানমন্ত্রী কোনো আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেননি। এমনকি কথা বলার সুযোগ দেননি।

মমতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনা কমে গেছে। যদি কমেই থাকে তাহলে এত মৃত্যু কেন? তাদের ঔদ্ধত্য, অহংকার ক্রমশই বাড়ছে। রাজনৈতিক সৌজন্য দেখানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এত ভয় কীসের? গণতন্ত্র বাঁচাতে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে জোট বাঁধতে হবে।??

এদিকে ১০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকদের ঐ ভার্চুয়াল বৈঠকে করোনা আক্রান্ত শিশু ও অল্প বয়সিদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভাইরাসের রূপ পরিবর্তনের ফলে শিশু ও অল্প বয়সিদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই আমি অনুরোধ করছি যেসব শিশু ও অল্প বয়সিরা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করুন ও এবং সেই তথ্য ক্রমাগত বিশ্লেষণ করুন।

জেলা প্রশাসকদের মোদি আরো জানান, এই পরিস্থিতিতে কোথাও যাতে টিকার অপচয় না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। টিকা নষ্ট হওয়ারও একটা বিষয় রয়েছে। যখন আপনাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে তখন সেই টিকার যাতে সম্পূর্ণ ব্যবহার হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। গ্রামীণ ও শহর এলাকায় নজর রাখতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী পদে ১০ বছর পূর্তি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১০ বছর পার করেছেন মমতা ব্যানার্জি। ২০১১ সালের ২০ মে প্রথম শপথ নিয়েছিলেন তিনি। এক দশক পূর্তিতে মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গতকাল এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ১০ বছর আগে এই দিনেই প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলাম। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করার পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছি। আমার প্রতি অবিচল আস্থার জন্য মা-মাটি-মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।