ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি ঘোষণা

ভারতে বিরল সংক্রমক ছত্রাক ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ বা মিউকোরমাইকোসিসকে মহামারি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই রোগকে মহামারি ঘোষণার জন্য প্রত্যেক রাজ্যে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেই চিঠিতে এই রোগকে ‘মহামারি আইন’-এর অধীনে তালিকাভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য রাজ্যগুলোকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। ঠিক যেমনটা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে। চিঠিতে বলা হয়েছে, মিউকোরমাইকোসিসের শনাক্তকরণ, নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা সমস্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজগুলোকে মেনে চলতে হবে।

এখন পর্যন্ত ভারতে করোনা রোগীদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। করোনা রোগী ছাড়া অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগে নাক বিবর্ণ হওয়া, দেখতে অসুবিধা হওয়া, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই দেড় হাজারের বেশি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগী চিহ্নিত হয়েছেন। ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। পশ্চিমবঙ্গেও পাঁচ জনের শরীরে এই রোগের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। রাজস্থান এবং তেলঙ্গানা রাজ্যে ইতিমধ্যেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

প্রসঙ্গত, মিউকোরমাইকোসিস একটি বিরল সংক্রমক রোগ। মূলত মিউকোরমাইসেটেস নামক ছত্রাক থেকেই এই রোগ হয়। এটি মাটিতে, চারা গাছে, পচনশীল পল ও সবজিতে থাকে। এই ছত্রাকটি মানুষের সাইনাস, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে আক্রমণ করে। ডায়াবেটিক ও ক্যানসার বা এইচআইভি/এইডস রোগীর জন্য এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। ভারতীয় চিকিত্সকদের ধারণা, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাত্ করে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়া এই ছত্রাক সংক্রমণের অন্যতম লক্ষণ। এছাড়া মুখ অসাড় হয়ে যাওয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কাশি, জ্বর, মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গ তো রয়েছেই। এমনকি, শরীরের কোথাও আঘাত লাগলে সেখানেও সংক্রমণ হতে পারে। সেখান থেকে দ্রুত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে সংক্রমণ।