মঠবাড়িয়ার ১১টি ইউনিয়নে মত্স্য সংরক্ষণ মৌসুমে কর্মহীন জেলেদের পুনর্বাসনের চাল বিতরণের সময় ওজনে কম দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঈদের আগে জেলেরা এ ভিজিএফ চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো অন্তত সাতটি ইউনিয়নে জেলেরা তাদের পুনর্বাসনের চাল পাননি। যে কয়টি ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হয়েছে তাতে দুই মাসে ৮০ কেজি চালের স্থলে প্রত্যেক জেলে ১০/১১ কেজি চাল ওজনে কম পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় বড়মাছুয়া ইউনিয়নের ৮৭৫ জন জেলের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। অথচ ঈদুল ফিতরের আগে ১২ মের মধ্যে এ চাল বিতরণের কথা ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল বিতরণের জন্য নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে গতকাল সকালে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বস্তা খুলে জেলেপ্রতি বরাদ্দ দুই মাসের ৮০ কেজি চালের স্থলে ১০ থেকে ১১ কেজি চাল কম দিয়ে বিতরণ করা হয়। এতে জেলেদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জেলেরা ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সাংবাদিকদের অবহিত করেন। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান নাসির হোসেন হাওলাদার ১০ কেজি করে চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা প্রত্যেক জেলেকে ৮০ কেজির পরিবর্তে ৭৬ কেজি চাল বিতরণ করেছি। বস্তায় চাল ঘাটতি, শ্রমিকদের মজুরি ও কার্ড বঞ্চিত হতদরিদ্র দুস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য চার কেজি করে চাল কম দিতে হয়েছে।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম তার উপস্থিতিতে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কার্ডধারী জেলেদের ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যান কম দিয়েছে কি না, সেটা আমার জানা নেই। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মিলন তালুকদার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে সঠিক মাপে চাল বিতরণের নির্দেশ দিয়েছি। জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ওজনে চাল কম দেওয়ার মৌখিক অভিযোগ পেয়েই তাত্ক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেই।