স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দুর্বল চার্জশিটের কারণে অনেক সময় জঙ্গিরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা ছিল না যে, হেফাজত এরকম নৃশংস ঘটনা ঘটাবে। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় তারা এই তাণ্ডব চালিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়ি ভাঙচুর, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরকারীদের অধিকাংশকে গ্রেফতার করেছি। হাটহাজারীতেও একই রকম ব্যবস্থা নিয়েছি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ‘জামায়াত-হেফাজতের সন্ত্রাসের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ :সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরীর মামলাটি অবশ্যই আমরা আমলে নেব। আমি দেখব কেন মামলাটি এখনো আমলে নেওয়া হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুলের চেয়ে মাদ্রাসার সংখ্যা বেশি। এমন কোনো গ্রাম-পাড়া নেই যেখানে মাদ্রাসা নেই। এখানে ৭০০-র অধিক মাদ্রাসা আছে। কোনো ভবনে দুই তিনটি মাদ্রাসাও আছে। যত্রতত্র মাদ্রাসা স্থাপন বন্ধ করার জন্য আমরা আইন তৈরি করতে যাচ্ছি। হেফাজত দাবি করে তারা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, কিন্তু তারা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। জামায়াত-শিবিরকে কোণঠাসা করার পর তারা হেফাজতের ব্যানারে চলে এসেছে। সব জায়গায় তাদের কর্মকাণ্ড জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডকে মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, আমরা যে কোনো জঙ্গি ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
শাহরিয়ার কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশে জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য প্রদর্শন করেছে যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু জঙ্গিদের রাজনৈতিক দর্শন—ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের ক্ষেত্রে কোনো সমন্বিত উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, গ্রেফতারের পরও চার্জশিটের দুর্বলতার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা জেল থেকে বেরিয়ে আবারও জঙ্গি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত-হেফাজতের মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সদস্য মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত, জাতীয় সংসদের ‘আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাস’-এর সদস্য উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী, রিজিওনাল এন্টি টেররিস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর প্রমুখ।