রাজশাহীর ৬ জেলায় করোনার টিকা দেওয়া বন্ধ, কবে শুরু হবে জানেন না কেউ

রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে ছয়টিতেই করোনার টিকার মজুদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে শুক্রবার (২১ মে) থেকে এসব জেলায় করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ডোজের টিকার কার্যক্রম আবার কবে শুরু হবে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

তবে তারা বলেন, নতুন টিকা না আসা পর্যন্ত এই কার্যক্রম শুরু করা যাবে না। এই ছয় জেলা হচ্ছে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ। এসব জেলায় সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) দ্বিতীয় ডোজের টিকা কার্যক্রম চলেছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়ায় কিছু মজুদ থাকায় উভয় জেলায় আরও কয়েকদিন টিকার দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম চলতে পারে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, নতুন করে টিকা না আসা পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবারই উল্লিখিত ছয় জেলায় টিকা কার্যক্রম শেষ। দু-একটি জেলায় দু-একটি করে ভায়াল থাকতে পারে। তা দিয়ে সারাদিনের কার্যক্রম চালানো যাবে না। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সামান্য কিছু টিকা আছে। এছাড়া বগুড়ায় কিছু বেশি পরিমাণ টিকা আছে। কারণ, গত মঙ্গলবার বগুড়ায় ৬০০ ভায়াল টিকা এসেছে। এক ভায়ালে ১০ জনকে টিকা দেওয়া যায়। তাই সেখানে আরও কয়েকদিন চলবে।

তিনি বলেন, প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কোন জেলায় যদি দু’এক ভায়াল থাকে, সেটা দ্বিতীয় ডোজ হিসেবেই দেয়া হবে। আমরা যে টিকা দিয়েছি, সেটা প্রথম ডোজ নেয়ার আট থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার নিয়ম। এখন নতুন করে কীভাবে টিকা দেয়া হবে সেটা গবেষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঠিক করবেন। তিনি আরও জানান, বিভাগের আট জেলায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ করোনার প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার জন। এখনো প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ টিকার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।


 
অন্যদিকে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার জানান, রাজশাহীতে প্রথম দফায় টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৪ জন। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় টিকা নিয়েছেন ৮১ হাজার ৬৪০ জন। মজুদ শেষ হওয়ায় এখনো দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে পারেননি ৫২ হাজার ১৩৪ জন। এই ব্যক্তিরা কবে টিকা পাবেন সেটি নিশ্চিত নন তিনি। তিনি বলেন, যারা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন তাদের একই প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিন নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সরকার পরবর্তীতে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটি কার্যকর করা হবে। 

নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে টিকা পাওয়া না গেলে প্রথম দফার কার্যকরিতা ঠিক থাকবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এটি সরকার অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।

রাজশাহীতে প্রথম দফায় ১ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা আসে। ২ হাজার ডোজ মজুদ থাকাবস্থায় দ্বিতীয় দফায় ৮৪ হাজার ডোজ টিকা আসে। এরপর দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ৮৮৪ জন দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এসজেড