মিষ্টিকুমড়ায় লোকসানের মুখে ঘিওরের কৃষক

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা 

চলতি বছর মিষ্টিকুমড়া চাষ করে ঘিওরের প্রায় শতাধিক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন। অথচ মিষ্টি কুমড়া চাষে উপজেলার বিভিন্ন  গ্রামের কৃষক বিগত পাঁচ-ছয় বছরে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তাদের সাফল্য দেখে এখানে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মিষ্টি কুমড়ার চাষ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক চাষি অন্যান্য ফসলের সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেন। তাদের সংসারে এসেছিল স্বচ্ছলতা। অল্প সময়, স্বল্প খরচ আর ভালো ফলনে ঐ অঞ্চলের কৃষকরা ছিল খুশি। কিন্তু করোনা আর লকডাউনের প্রভাবে মিষ্টি কুমড়ার দর নেমে এসেছে চার-পাঁচ টাকা কেজি দরে। ফলে লাভের মুখ তো দূরের কথা উত্পাদন খরচ ওঠা নিয়েই শঙ্কিত কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘিওরে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। কৃষকরা কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে আলু ও ফুলকপির চাষ করে। একই জমিতেই মাসের মাঝামাঝি সময়ে মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মিষ্টি কুমড়ার ফলন পাওয়া যায়। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কমবেশি মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। তবে বালিয়াখোড়া, চঙ্গশিমুলিয়া, মাইলাগি, বড়বিলা, নীলা, বাঙ্গালা, বরুরিয়া, পয়লা, কুইষ্টা গ্রামে উল্লেখযোগ্য হারে কুমড়ার আবাদ হয়।  পাইকারি ক্রেতা সিংজুরি ইউনিয়নের কামারজাগি গ্রামের কান্দু বেপারী ও বালিয়াখোড়া এলাকার রতন মিয়া জানান, অন্যান্য এলাকার চেয়ে এখানকার উত্পাদিত মিষ্টি কুমড়া সুস্বাদু ও আকৃতিতে বড় হয় বলে চাহিদা বেশি। এ বছর আমরা ৩ লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়া পাইকারি ক্রয় করেছি। গত বছরের চেয়ে এ বছর কুমড়ার দাম তুলনামূলক কম। লাভের আশা খুব একটা করা যাবে না।