ভবানীপুর থেকেই উপনির্বাচনে লড়বেন মমতা ব্যানার্জি!

পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা আসনের বিধায়ক পদ ছেড়ে দিলেন তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে পদত্যাগ পত্র তুলে দেন তিনি। তৃণমূল সূত্র জানিয়েছে, এই ভবানীপুর আসন থেকে উপনির্বাচনে লড়তে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে দলটির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি। যদিও পদত্যাগের পরে শোভনদেব বলেছেন, নেত্রীকে আসন ছেড়ে দিতেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

প্রতিবারই রাসবিহারী আসন থেকে বিধায়ক হয়েছেন শোভনদেব। কিন্তু এবার তিনি ভবানীপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা  করেন। অন্যদিকে ভবানীপুর মমতার পুরনো আসন। ২০১১ সালে তিনি এই আসনে উপনির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি এই আসন থেকে বিধায়ক হন।

তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি নন্দীগ্রামের আসন থেকে প্রার্থী হন। সেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তারই সাবেক শিষ্য শুভেন্দু অধিকারী। যিনি কিছুদিন আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে দলটির প্রার্থী হন। নির্বাচনে অনেক নাটকীয়তার পর মমতা ব্যানার্জি ১৯৫৬ ভোটে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হন।

হারলেও টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মমতা। ভারতে নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী শপথগ্রহণের ৬ মাস পর্যন্ত বিধানসভা বা লোকসভার সদস্য না হয়েও মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে ঐ ৬ মাসের মধ্যে তাকে রাজ্যের ক্ষেত্রে বিধানসভা এবং ভারতের সরকার গঠনের জন্য লোকসভা বা বিধানসভায় নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস যখন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল, তখনও মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের এমএলএ ছিলেন না। পরে উপনির্বাচনে জেতেন তিনি। ভবানীপুরে এবার বিজেপির অভিনেতা-প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষকে পরাজিত করেন শোভনদেব।