রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে সন্তানের সামনে শাহিন উদ্দিন (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি মানিক ওরফে চাপাতি মানিক র?্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়।
এদিকে হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়ালের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। শুক্রবার তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
চাপাতি মানিক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
র্যাব-৪-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে র্যাবের একটি টহল টিম কাজ করছিল। তাদের কাছে খবর আসে, একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। টহল টিম সেখানে গেলে র?্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা। আত্মরক্ষার্থে র?্যাবও পালটা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে সেখানে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র?্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, নিহত ব্যক্তির নাম মানিক। পল্লবীতে শাহিন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে যে দুজন কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন, তাদের একজন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৬ মে বিকালে শাহিন উদ্দিন তার ছেলে মাশরাফিকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরছিলেন। এমন সময় শাহিনকে সুমন বেপারী ফোন করে ৩১ নম্বর রোডে দেখা করার কথা বলেন। সেখানে পৌঁছালে মাশরাফিকে মোটরসাইকেল থেকে তার বাবা নামিয়ে দেয়। এসময় সুমন লাথি মেরে শাহিনকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। এরপর মুরাদ ঐ ব্যক্তিকে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। পরে মানিক ও মনির চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে এম এ আউয়ালসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরদিন পুলিশ দিপু ও মুরাদকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তভার ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। ১৯ মে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কিলার গ্রুপের প্রধান নেতা সুমন বেপারী ও রকি তালুকদারকে গ্রেফতার করে। একই দিন র্যাব সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল, হাসান ও জহিরুল হক বাবুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তি সবাই এজাহারনামীয় আসামি।
এদিকে, মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহত শাহিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে পল্লবী থানায়। এর আগে ২০১৫ সালের উত্তর কালশী সড়কে জমি দখলকে কেন্দ্র করে আউয়াল গ্রুপ ও শাহিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে একজন পথচারী নিহত হয়। ঐ ঘটনায় শাহিন উদ্দিন আহত হন। শাহিনের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। ঈদের দুই দিন আগে এম এ আউয়ালের দায়ের করা মামলায় শাহিন জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার তিন দিন আগে মোস্তফা নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শাহিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন।
আবার জমির বিরোধকে কেন্দ্র শাহিন উদ্দিন এক বছর আগে পল্লবী থানায় তার ওপর হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেছিলেন। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেরিয়েছে। তাদের দাপটে শাহিন সব সময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকতেন।
শাহিন উদ্দিনের মা আকলিমা বেগম বলেন, তারা উত্তর কালশীর সিরামিক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তার স্বামী মারা যাওয়ার সময় শাহিনের নামে বাউনিয়া মৌজার উত্তর কালশীর বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকায় ১০ একর জমি রেখে যান। ঐ এলাকায় আবাসন ব্যবসা রয়েছে এম এ আউয়ালের। তাদের ঐ ১০ একর জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন হ্যাভেলি প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মালিক ও সাবেক এমপি আউয়াল। এরই জের ধরে তার ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন।