বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এখন দেশের আমলারাও সরকারি দলের নেতা। তারা প্রকাশ্যেই দেশ চালানোর কথা বলেন, রাজনীতিও করেন। তিনি অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ সরকার এই অবস্থা তৈরি করার জন্য দায়ী। তারা দেশের আইন, বিচার, শাসন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসহ সব খাত ধ্বংস করেছে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ফখরুল এসব কথা বলেন। সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম, রুহুল আমিন গাজী, রাজনৈতিক নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরীসহ রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে এই আলোচনাসভা হয়। মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, আবদুল হাই শিকদার, কাদের গনি চৌধুরী, মহিলা দলের নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী, নেওয়াজ হালিমা আরলী, নিলোফার চৌধুরী মনি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে সরকার সব সাংবাদিকদের শিক্ষা দিতে চায়, বোঝাতে চায় বেশি লাফালাফি করা যাবে না। এই দানব সরকারকে সরাতে হবে, দেশকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে। রোজিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তিনি (রোজিনা) সাহস নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের দুর্নীতি তুলে ধরেছেন। এ জন্যই রোজিনার প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের ক্ষোভ। বৃহস্পতিবার রোজিনা ইসলামকে জামিন না দেওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জামিন দিতে দেরি করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার হার্ট-কিডনি আক্রান্ত, উদ্বিগ্ন চিকিত্সকেরা
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিত্সাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিত্সকেরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পোস্ট কোভিড জটিলতায় তার হার্ট ও কিডনি আক্রান্ত হয়েছে। তবে তার শরীরে অধিক তাপমাত্রা নেই, শ্বাসকষ্টও নেই।
গতকাল শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন—চিকিত্সকেরা চেষ্টা করছেন, তবে আমরা আশাবাদী খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন। তবে করোনা-পরবর্তী জটিলতায় হার্ট ও কিডনি আক্রান্ত হওয়াটা উদ্বেগের। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মহিলা দল আয়োজিত এক সভায় এসব কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাডামকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। অনেক দিন পর তার মুখে হাসি দেখেছি। ডাক্তাররা আমাদেরকে বলেছেন যে, তার উন্নত চিকিত্সার জন্য যে সমস্ত ইকুইপমেন্ট দরকার, এভারকেয়ার হাসপাতালেও সেগুলো নেই। মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, তার পরিবারের পক্ষ থেকে যখন বিদেশে চিকিত্সার জন্য আবেদন করা হয়েছিল, সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে না দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা মনে করে বেগম জিয়া যদি দেশের বাইরে যান, তাহলে আবার তিনি তাদের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করবেন। ভয়টা কেন, ভয় এ কারণেই যে এদেশের জনগণের তিনি-ই নেতা, তিনি-ই গণতন্ত্রের শেষ আশ্রয়স্থল।
তবে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিত্সক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মেডিক্যাল বোর্ড গুরুত্ব সহকারে বেগম জিয়ার চিকিত্সা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই চিকিত্সাকে দীর্ঘমেয়াদি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এভারকেয়ার হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল চিকিত্সক বলেন, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও স্বাস্থ্যগত বেশকিছু জটিলতা থাকায় খুব শিগিগরই তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় যেতে পারবেন না।