মাত্র ১ হাজার ১০ টাকা পরিশোধ না করায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসুদেবপাড়া গ্রামের নুরুন্নাহার নামের এক নারীকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ঐ মামলায় গ্রেফতার হয়ে আট মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তান রেখে ঐ নারীকে দুদিন জেলখাটতে হয়েছে।
বাসুদেবপাড়া গ্রামের সেলিম হাওলাদারের স্ত্রী ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ২০১৯ সালে বাটাজোর বন্দরের ঐ সোসাইটি থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিই। দীর্ঘদিন ঠিকমতো কিস্তি দিলেও দেশে করোনা ভাইরাস শুরু হলে ঐ মাল্টিপারপাসের অফিস বন্ধ থাকায় একটি কিস্তি পরিশোধ করতে পারিনি। ফলে তার (নুরুন্নাহার) কাছে প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ১০ টাকা পাওনা থাকে। তিনি বলেন, দুদিন আগে গৌরনদী মডেল থানার এসআই রফিক বাসুদেবপাড়া কালীবাড়ী বাজারে গিয়ে তাকে (নুরুন্নাহার) খোঁজাখুঁজি করেন। গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে তিনি সরল মনে ঐ এসআইয়ের সঙ্গে দেখা করতে থানায় যান। এ সময় তিনি জানতে পারেন পপুলার মাল্টিপারপাস তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং ওয়ারেন্ট হয়েছে। পরবর্তীকালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, ঐ মাল্টিপারপাস ঋণ পরিশোধের জন্য তাকে কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়েই মামলা করেছে। ফলে আট মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তান রেখে তাকে দুদিন জেলখাটতে হয়েছে। তিনি ওই মাল্টিপারপাসের লাইসেন্স বাতিলপূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গৌরনদী মডেল থানার এসআই রফিক জানান, ২০২০ সালে পিরোজপুর আদালতে মামলাটি করা হয়। ওয়ারেন্ট থাকায় ঐ নারীকে আদালতে পাঠানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ভুক্তভোগী নারীর পিতা বিষয়টি তাকে অবহিত করেছেন। করোনাকালীন ঐ মাল্টিপারপাস সোসাইটির সহনশীল হওয়া উচিত ছিল। এ বিষয়ে জানতে পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির বাটাজোর অফিসে গেলে সেটি বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।