‘গুম’ হওয়া রুবেল ফিরে এলো ১৪ বছর পর

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেকের কুড়েরপাড় এলাকার বাসিন্দা ১৪ বছর আগে ‘গুম’ হওয়া রুবেল ওরফে আল আমিন (২১) জীবিত ফিরে এসেছে। ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি সে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। তাকে গুম করা হয়েছে এই অভিযোগে তার মা রহিমা খাতুন দুই জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৯ জনকে আসামি করে ২০০৭ সালে মামলা করেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায়। মামলায় ছয় থেকে সাত আসামি জেলও খেটেছে। এর মধ্যে গত বুধবার রাতে রুবেল বাড়িতে আসে। খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার আসামিরা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বিচার দাবি করেছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওসি শাহ জামান। 

এদিকে গতকাল শুক্রবার বিকালে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে রুবেল। পরে নিজ জিম্মায় বাড়িতে ফিরে যায়। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত মামলার মূল নথিপত্রের সঙ্গে রুবেলের জবানবন্দির রেকর্ড সংযুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে কী করণীয়, আদালত সে বিষয়ে পরবর্তীতে নির্দেশনা দেবেন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

গণমাধ্যমকে রুবেল জানায়, সে তার মায়ের মারধর ও ক্ষুধার যন্ত্রণা সইতে না পেরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনযোগে কমলাপুর যায়। সেখানে দীর্ঘদিন মানুষের কাছে হাত পেতে খেয়ে বেঁচেছিল। এরপর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বর্তমানে মগবাজার মধুবাগ হাতিরঝিলসংলগ্ন মসজিদের পাশে ভাড়ায় বসবাস করে রং মিস্ত্রির কাজ করছে। আসল নাম রুবেল হলেও মগবাজারে রং মিস্ত্রি আল আমিন নামে পরিচিত। সে আরো জানায়, ১০ বছর পর তার সঙ্গে মায়ের যোগাযোগ হয়। পরে সে কুড়েরপাড় আসতে চাইলে তার মা বলে, ‘তোকে এলাকায় নিয়ে গেলে মেরে ফেলবে।’ গত চার বছর ধরে সে এলাকায় আসতে চাইলেও তার মা তাকে আসতে দেয়নি। একপর্যায়ে মাকে না জানিয়েই নিজ বাড়িতে ফিরে আসে সে।

এদিকে মামলার বাদী রহিমা খাতুন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পলাতক রয়েছেন। রুবেলের বাবার নাম জানু মিয়া। এলাকাবাসী জানান, মামলার বাদী রহিমা খাতুন এলাকায় মামলাবাজ নারী হিসেবে পরিচিত। তিনি মিথ্যা মামলা থেকে তার আত্মীয়স্বজনকেও ছাড় দেননি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রুবেল জানায়, তার মা অন্য লোকের প্ররোচনায় মামলা করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।