অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী কর্মজীবী মানুষের ঢল এখনো অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় বেড়ার কাজীরহাট ফেরিঘাটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এদিকে ফেরিঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে চলাচলকারী চারটি ফেরির মধ্যে একটি বন্ধ করে দেওয়ায় বাকিগুলোতে যাত্রীর চাপ বেড়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে কাজীরহাট ফেরিঘাটে দেখা গেছে, ছুটি শেষে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ কর্মস্থল ঢাকায় ছুটছেন। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যানবাহনে তারা কাজীরহাট ঘাটে এসে নামছেন। তবে ফেরি স্বল্পতায় এসব যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করছেন। আর আরিচা থেকে কাজীরহাটে ফেরি এসে ভেড়ামাত্রই হুড়োহুড়ি করে উঠছেন। এভাবে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন অনেকে। অনেকে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়েও পড়ছেন। গাদাগাদি করে ফেরিতে ওঠার ফলে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। এদিকে কাজীরহাট ঘাটে ফেরিতে ওঠার আগমুহূর্তে ঘাট ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজনের কাছ থেকে ফেরি পারাপারের টিকিট সংগ্রহ করে যাত্রীরা ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন। নদী পারাপারের টিকিটমূল্য ২৫ টাকা হলেও অধিকাংশ যাত্রীর কাছ থেকে ৩০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী রাশেদ হাসান ঈদের ছুটি কাটিয়ে নাটোর থেকে শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন। ফেরিঘাটে পৌঁছার পর ইজারাদারদের মনোনীত প্রতিনিধিরা তার কাছ থেকে নদী পারাপারের টিকিটের জন্য ৩০ টাকা নেন। রাশেদ বলেন, নাটোর থেকে কখনো বাসে আবার কখনো সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে ঘাট পর্যন্ত এসেছি। প্রতিটি যানবাহনেই বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। ভেবেছিলাম সরকারি ফেরিতে আসল ভাড়ায় পার হওয়া যাবে। কিন্তু এখানেও ভাড়া বেশি নিল।
তবে বিআইডব্লিউটিসি ফেরি সার্ভিসের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা ইজারাদারের প্রতিনিধি পল্লব হোসেন দাবি করেন, ভাড়া এক টাকাও বেশি নেওয়া হচ্ছে না। ঘাটে ১২ জন টিকিট বিক্রেতা রয়েছেন এবং তারা সরকার নির্ধারিত ২৫ টাকা করেই আদায় করছেন। নগরবাড়ী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ১৮ মের আগ পর্যন্ত চারটি ফেরি পালা করে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে চলত। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটিতে একটি ডকে পাঠানোয় এখন তিনটি ফেরি চলছে। এতে চাপ বেড়েছে। আর ভাড়া বেশি নেওয়ার ব্যাপারে বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ পেয়ে ইজারাদারদের নিষেধ করে দিয়েছি।