করোনা পরিস্থিতির অবনতি
রয়টার্স
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রাণহানির সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মে মাসে বিশ্বে কোভিডে মৃত্যুর ৩১ শতাংশই ছিল লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে, যেখানে পৃথিবীর মাত্র ৮ দশমিক ৪ শতাংশ লোকের বসবাস। গত এক সপ্তাহ ধরে কোভিড-১৯-এ মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি মৃত্যুহার রয়েছে যে আটটি দেশে, সেগুলোর সবই লাতিন আমেরিকার।
লিবিয়ার ধূলি ধূসরিত মালভূমি থেকে ব্রাজিলের সাও পাওলোর মতো মহানগরী, মহামারি ধসিয়ে দিয়েছে ঐ অঞ্চলের রুগ্ন স্বাস্থ্যসেবা খাতকে। মহামারিতে সবচেয়ে বিপর্যস্ত পেরুর পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। রাজধানী লিমার হাসপাতালে রোগী উপচে পড়ছে, করিডোরে রোগী মারা যাচ্ছে। ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গলের কাছের শহর মানয়সে রোগীরা অক্সিজেনের অভাবে বাড়িতেই মারা যাচ্ছে, কারণ সেখানে অক্সিজেনের সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে। চিকিত্সক ও জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, গত বছর করোনা ভাইরাস মহামারি ঐ অঞ্চলে অপ্রস্তুত সরকারগুলোর জন্য একটি বিস্ময়ের ধাক্কা হয়ে আসে এবং যেসব রাষ্ট্র নেতারা একে পাত্তা না দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তারা একই সঙ্গে সময়মতো টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হয়েছেন।
মেক্সিকোর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালের কোভিড-১৯ প্রতিরোধ কার্যক্রমের প্রধান ড. ফ্রানসিসকো মোরেনো সানচেজ বলেন, ‘মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি না নিয়ে, আমরা রোগটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি এটা বলে যে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উষ্ণতা ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে দেবে।’ সরকারের টিকাদান কর্মসূচির ধীরগতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল মহামারির কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে এ বছরের শুরুতে, যদিও দ্রুতই ভারত সেই স্থান দখল করে নেয়। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সেদেশে কোভিডে মারা গেছে ২ হাজার ২১৫ জন। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় এই মহামারিতে মৃতের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছ। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় একটি জাতীয় কর্মসূচির পরিকল্পনা করতে এবং সময়মতো টিকা কিনতে না পারার ব্যর্থতার অভিযোগে দেশটির একটি পার্লামেন্টারি কমিশন কট্টর-ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোর সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।
আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটার ১৯ মে পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় পিছিয়ে। সেখানে মাত্র ১৫ শতাংশ জনগণ এক ডোজ টিকা পেয়েছে। এই হার ইউরোপে ২৮ এবং উত্তর আমেরিকায় ৩৪ শতাংশ। শুধু এশিয়া এবং আফ্রিকা এক্ষেত্রে পিছিয়ে, দুই মহাদেশে এই হার যথাক্রমে ৫ ও ১ শতাংশ।