গত বছর করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁয় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, করোনায় সারা দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। অর্ধেক মালিকানা বদল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসিয়ে গ্রাহকদের খাবার খাওয়াতে এবং বিক্রি করতে চান মালিকরা। গতকাল সংগঠনের পুরানা পল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। এ সময় মালিক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি, মহাসচিব ইমরান হাসান, উপদেষ্টা খন্দকার রুহুল আমিনসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ ২৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে গত ১৬ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ। এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, খাবারের দোকান ও হোটেল-রোস্তোরাঁগুলো কেবল খাদ্য বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারবে। এই বিক্রির ক্ষেত্রে অনলাইন কিংবা সরাসরি কিনে নিয়ে আসার সুযোগ পেয়েছেন গ্রাহকরা। রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রেখে সেখানে বসে ক্রেতাদের খাওয়ার সুযোগ চান মালিকরা।
তারা শ্রমিকদের প্রণোদনা সুবিধা এবং মালিকদের এসএমই খাত থেকে স্বল্প সুদে ঋণ চান। লিখিত বক্তব্যে মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, সরকার কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশনা মেনে, স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে টেকওয়ে, পার্সেল ও অনলাইন ডেলিভারির মাধ্যমে ব্যবসাকে সীমিত রাখা হয়েছে। এ ব্যবসা মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ। সংগঠনের নেতারা মনে করেন, বর্তমানে অনলাইনে সরবরাহ সুযোগ দিয়ে রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার ঘোষণাটি দূরভিসন্ধিমূলক। এতে দেশ-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের হাত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের সব বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও উপজেলা শহর মিলে হোটেল-রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৬০ হাজার। এতে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা ৩০ লাখ। সব মিলিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে প্রায় ২ কোটি মানুষ নির্ভরশীল। এরা এখন বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। করোনায় যেসব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সভাপতি ওসমান গনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এ খাত থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়ার জন্য জোর-জুলুম চলছে। এ ভ্যাটের হার সম্পূর্ণ অনৈতিক। তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আমাদের থালাবাটি নিয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় নেই। আমাদের দাবি না মানলে সারা দেশে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।’