করোনায় ৭৫ ভাগ আয় কমেছে ব্রিটিশ রেস্টুুরেন্ট ব্যবসায়

বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে বেকারত্ব

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গেল দুই বছর ধরে চলা অতিমারি কোভিড-১৯-এর আঘাতে সমগ্র বিশ্বের জনজীবন যেমন লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে তেমনি আর্থিক জীবনে নেমে এসেছে দুর্বিপাক। বিলেতকে বলা হয় বাংলাদেশি বাঙালিদের দ্বিতীয় আবাস ভূমি। যেখানে ভারতীয় কারী রেস্তোরাঁগুলোর নামে কিন্তু রয়েছে বাংলাদেশি বাঙালিদের রেস্তোরাঁর একাধিপত্য। ব্রিটিশ কারী অ্যাওয়ার্ডসের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এক জরিপ পরিচালনা করে এবং এই জরিপে উঠে আসে, বিলেতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও প্রাণচঞ্চল বাংলাদেশি ও ভারতীয় রেস্তোরাঁগুলোতে বিক্রির পরিমাণ আর কোভিডপূর্ব পর্যায়ে ফিরে না আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এই জরিপ ১২১টি ভারতীয় ও বাংলাদেশি রেস্তোরাঁর ওপরে চালানো হয় যা যুক্তরাজ্যের প্রায় ১২ হাজার রেস্তোরাঁর ১ শতাংশ। ব্রিটিশ কারী অ্যাওয়ার্ডসের এই জরিপে আরো উঠে এসেছে যে, গেল বছরের লকডাউনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশি ও ভারতীয় রেস্তোরাঁগুলো। গড়ে আটটির মধ্যে সাতটি রেস্তোরাঁয় বিক্রয় কমেছে প্রায় ৮৬ শতাংশ ও আয় কমেছে ৭৫ শতাংশ। প্রায় ৪২ শতাংশেরও বেশি রেস্তোরাঁ তাদের এক-চতুর্থাংশ আয় হারিয়েছে। এই আশঙ্কার ঘনায়মান মেঘের কারণে অনেক রেস্তোরাঁ তাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। দক্ষ শেফের অভাবে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আতিথেয়তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দাবি উঠেছে যে মন্ত্রণালয় রেস্তোরাঁ ও পাব শিল্প খাতের দেখভাল করবে।

ব্রিটিশ কারী অ্যাওয়ার্ডস যা কারী খাতের অস্কার নামে খ্যাত তার প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ও ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স  অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এনাম আলি তার পর্যবেক্ষণে বলেন, কারী শিল্প কোভিডের ধাক্কায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। হাজারো রেস্তোরাঁ গেল বছরে তার তিন কোয়ার্টারের আয় খুইয়েছে। তারা আশাহত হয়ে পড়েছে। তাদের আত্মবিশ্বাসের ধাপ অবিশ্বাস্য রকমের নিচে নেমে গেছে। গত কয়েক বছর ধরে দক্ষ শেফের অভাবে অনেকে রেস্তোরাঁগুলো পূর্ণ মাত্রায় চালাতে পারছিল না। এই সংকটের ফলে মূলত; বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন রেস্তোরাঁগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এনাম আলি বলেন, এক সময়ে যারা কারী শিল্পে সাফল্যের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তারা অনেকেই এখন রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিচ্ছে। যেখানে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান ৫ বিলিয়ন পাউন্ড। তিনি আরো যোগ করেন যে, অত্যন্ত সুখ্যাত ব্রিটিশ টিক্কা মসলার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি। তিনি এ খাতের উন্নয়নের জন্য আতিথেয়তা বিষয়ক একজন মন্ত্রিও দাবি করেন।