সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও গ্রেফতারে ক্ষোভ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, কিছু আমলা রোজিনা ইসলামের বিষয়টি নিয়ে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এ অবস্থান থেকে সবার সরে আসার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেছেন, আগামীকাল (রবিবার) রোজিনা ইসলাম আদালতের আদেশে মুক্ত হয়ে আসবেন বলে তিনি আশা করছেন।
রোজিনা ইসলামের মুক্তি এবং তার মামলা প্রত্যাহারের দাবি নিয়ে করণীয় নির্ধারণে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বৈঠক করেন সাংবাদিকদের পাঁচ সংগঠনের নেতারা। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠক প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার। বৈঠক শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানান ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু। বৈঠকে উপস্থিত থেকে টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করা হয়।
সাংবাদিক নেতারা রোজিনা ইসলামকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার মামলা প্রত্যাহারের দাবি নিয়ে আজ রবিবার তিন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। এই তিন মন্ত্রী হলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
গণমাধ্যমকর্মী আইন এবং সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করার দাবি তুলে ধরে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যেন সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার না হন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা যেটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে সংবিধানেই দিয়ে গেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি অবাধ তথ্যপ্রবাহ আইন দিয়েছেন। তথ্য অধিকার আইন থাকাকালে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে সাংবাদিকদের মুক্তভাবে কাজ করতে না দেওয়াটা একটি সাংঘর্ষিক অবস্থান।’
ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, রোজিনা ইসলামের জামিনের আদেশের দিন ধার্য থাকায় আজ রবিবার পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি থাকছে। আদালতের সিদ্ধান্ত দেখে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, বাংলাদেশ ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক, সেন্টারের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজের) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাকারিয়া কাজল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহসভাপতি ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, টেলিভিশন ক্যামেরা পারসন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
নারী সাংবাদিকদের প্রতীকী অনশন
এদিকে কারাবন্দি সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদী প্রতীকী অনশন করেছেন বিক্ষুব্ধ নারী সাংবাদিকরা। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে এই প্রতীকী অনশন শুরু হয়। অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানান প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ ও সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক।
অনশনরত ডিআরইউয়ের নারী বিষয়ক সম্পাদক রিতা নাহার বলেন, সারা দেশের গণমাধ্যম কর্মীরা যখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তখন একজন সাংবাদিককে চোর উপাধি দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, তথ্য সংগ্রহ কোনো অপরাধ নয়।