২০০ টাকার জন্য বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে বন্ধুকে হত্যা!

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পল্লিতে ধারের ২০০ টাকা ফেরত চাওয়ায় আব্দুস সালাম (১৯) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুনের অভিযোগ উঠেছে আরেক বন্ধুর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বালিয়াদীঘি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সালাম গাবতলী উপজেলার বালিয়াদীঘি গ্রামের সাজু প্রামানিকের ছেলে। এ ঘটনায় শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে বালিয়াদীঘি গ্রামের পার্শ্ববর্তী মাঠের মেশিন ঘরের মধ্য থেকে নিহত সালামের বন্ধু জীবনকে (১৯) গ্রামবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটক জীবন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বালিয়াদীঘি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুস সালাম ও জীবন দুই বন্ধু। তারা অনেক দিন ধরে একসঙ্গে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। বেশ কিছুদিন আগে সালাম জীবনকে ২০০ টাকা ধার দেয়। এদিকে জীবন ধার নেওয়া টাকা ফেরতও দেন না আবার সালামের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। সালাম জীবনকে মোবাইল  করলে জীবন ফোন বন্ধ করে রাখেন।

শুক্রবার রাতে সালাম বাড়ির পাশে জীবনকে দেখতে পেয়ে পাওনা টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে জীবনের মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চায়। শুরু হয় বাগিবতণ্ডা। এ সময় জীবন টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে সালামকে ফাঁকা স্থানে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সালামকে পেটে ছুরিকাঘাত করে জীবন পালিয়ে যায়। সালামের চিত্কারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সালামকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল            কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর থেকে পুলিশ জীবনকে ধরতে অভিযান চালায়। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে স্থানীয়রা জীবনকে গ্রামের পার্শ্ববর্তী মাঠের মেশিন ঘরে লুকিয়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ এসে জীবনকে আটক করে।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, সালাম ও জীবন বন্ধু। গুরুতর আহত অবস্থায় সালাম তার পরিবারের কাছে জীবন তাকে ছুরিকাঘাত করেছে এবং টাকা দেওয়ার কথা বলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বিস্তারিত জানায়। নিহত সালামের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি।