স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালুসহ ৬ দফা দাবি মালিকদের

স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চে যাত্রী পরিবহন, ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা। আগামীকাল সোমবার থেকে সারা পদশে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। লঞ্চ মালিকদের দাবি, করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল করলেও বন্ধ করা রাখা হয় লঞ্চ। এতে ঈদে গাদাগাদি করে ফেরিতে পার হতে গিয়ে ছয় জনের মৃত্যু হয়। তারা বলেন, ২০২০ সালে লকডাউনে দুই মাস লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সে সময়ে মালিক ও শ্রমিকদের কোনো প্রকার প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। এ বছর শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন ও বোনাসের জন্য জন্য ২০ কোটি টাকা প্রণোদনা চাওয়া হলেও তা দিতে নৌ-মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

গতকাল শনিবার ঢাকা নদী বন্দরে (সদরঘাট) সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু।

লঞ্চ-মালিকেরা যখন সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানাচ্ছিলেন ঠিক তখনই একই ভবনের ওপরের তলায় কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক। লঞ্চ চালানোর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নৌ-মন্ত্রণালয় বা বিআইডব্লিউটি-এর হাতে নয় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে সরকারের যারা ভাবছেন, তারা যদি মনে করেন এখন লঞ্চ চলাচলের সময় এসেছে তাহলে অবশ্যই তারা সেই সিদ্ধান্ত দেবেন।

লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের প্রণোদনা ও ফি মওকুফ করার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছর ৬৬ দিনের নৌযান বার্দিং ও কঞ্জারভেন্সি ফি মওকুফ করা হয়েছে। এবারও যতদিন লঞ্চ বন্ধ থাকবে ততদিনের ফি মওকুফ করা হবে। শ্রমিকদের যারা জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিতে পেরেছেন তাদের ২ হাজার ৫০০ টাকা করে টাকা দিয়েছে সরকার। এছাড়া দুই মাসের বেতন-বোনাস দিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার মালিকদের কাছে তথ্য চেয়েছে। অনেক মালিকই নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ তথ্য দিতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হচ্ছে : ২৪ মে থেকে সারা দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগের মতো লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়া। প্রণোদনার টাকা দ্রুত মালিকদের মধ্যে বিতরণ করা। এনবিআরের ছয় মাসের ট্যাক্স, বিআইডব্লিউটি-এর ছয় মাসের কঞ্চারভেন্সি ও বার্দিং চার্জ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ছয় মাসের সার্ভে ফি এবং  ব্যাংক লোনের ছয় মাসের সুদ মওকুফ করা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সহসভাপতি মো. সালাহউদ্দিন ও আবুল কালাম খান, পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ, আলী আজগর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।