ব্যাটিংয়ে পথ দেখালেন অভিজ্ঞরাই

জান-ই-আলম

সংবাদমাধ্যমে, ক্রিকেটের আড্ডায়, সমর্থকদের মধ্যে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অন্যতম আলোচনার বিষয় জাতীয় দলের সিনিয়রদের ভূমিকা ও তরুণদের ব্যর্থতা। সিনিয়রদের ছায়ায় বেড়ে উঠলেও সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়ার কাজটা করতে পারছেন না তরুণরা।

বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। ধারাবাহিকতার বড্ড অভাব তরুণদের মধ্যে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চার-পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলেও লিটন দাস, সৌম্য সরকাররা পরিণত হতে পারেননি। কালেভদ্রে প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন বটে, তবে ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী। তাদের জন্য সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। তারপরও অধিনায়ক, কোচ, নির্বাচকদের আস্থার হাতকে পাশে পাচ্ছেন মিঠুন-লিটনরা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গতকাল সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে টেনেছেন তিন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাফ সেঞ্চুরিতেই লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। টসজয়ী স্বাগতিকদের ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৫৭ রানের মধ্যে তাদের ব্যাট থেকেই এসেছে ১৯০ রান।

লিটন-মিঠুনদের ব্যাট গতকালও ব্যর্থ হয়েছে দলের প্রয়োজনে জেগে উঠতে। রানের খাতাই খুলতে পারেননি তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দুশমন্থ চামিরার তীব্র গতির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন (০)। ধনাঞ্জয়ার করা ২৩তম ওভারের পঞ্চম বলে তামিম আউট হন। ঠিক পরের বলেই মিঠুনও (০) এলবির ফাঁদে পড়েন। উইকেটে এসে নিজের প্রথম বলেই সুইপ করতে গিয়ে উইকেট দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে বাংলাদেশের একটি রিভিউও নষ্ট করেছেন মিঠুন।

তিন ম্যাচ খেলার পর আইপিএলে সাইড বেঞ্চেই সময় কেটেছে সাকিবের। দেশে ফিরে ১২ দিন কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। অনুশীলনের তথা সিরিজের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি। প্রস্তুতি ম্যাচের মতোই গতকাল দ্রুত সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। রয়ে-সয়ে শুরু করলেও ৩৪ বলে ১৫ রান করে গুণাথিলাকার শিকার হন সাকিব। ৪৩ রানে ২ উইকেট পতনের পর তামিম-মুশফিক ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ক্যারিয়ারের ৫১তম হাফ সেঞ্চুরিটা বড় করতে পারেননি তামিম। ৫২ রান করে ফিরেন তিনি।

দ্রুত ২ উইকেট হারানোর ধাক্কাটা প্রবল হয়নি মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ১০৯ রানের জুটিতে। কিন্তু সেট হওয়ার পর যখন দ্রুতলয়ে রান তুলবেন, তখনই উইকেট দিয়ে ফিরেছেন তারা। ৮৪ রান করে আউট হয়েছেন ৪০তম হাফ সেঞ্চুরি করা মুশফিক। সেঞ্চুরি মিসের দায়টা তার নিজেরই। কারণ সান্দাকানের বলে রিভার্স সুইপ খেলে ক্যাচ দেন তিনি। তীব্র গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন ২৪তম হাফ সেঞ্চুরি করা মাহমুদউল্লাহ। ৫৪ রান করে ৪৮তম ওভারে ধনাঞ্জয়ার বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি।

তারপরও বাংলাদেশের স্কোরটা ২৫০ ছাড়িয়েছে সাত নম্বরে নেমে আফিফ হোসেনের ২২ বলে অপরাজিত ২৭ রানের ইনিংসে। সাইফউদ্দিনও অপরাজিত ১৩ রান করেন। শ্রীলঙ্কার ধনাঞ্জয়া ৩টি, চামিরা, গুণাথিলাকা, সান্দাকান ১টি করে উইকেট পান।

রান  ৮৪

বল   ৮৭

চার  ৪

ছয়   ১