রোমান-দিয়ার হাতে সোনার পদক ধরা দেয়নি

স্পোর্টস রিপোর্টার

স্বপ্নের ফাইনালে উঠেও সোনার পদকের ছোঁয়া পেল না বাংলার দুই আর্চার রোমান সানা এবং দিয়া সিদ্দিকী। সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে বিশ্বকাপ আর্চারিতে রিকর্ভ মিশ্র ইভেন্টে  ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫-১ সেট পয়েন্টে হেরেছে বাংলাদেশ। ফাইনালে হেরে গেলেও বাংলাদেশের আর্চাররা খুশি। তারা নিজেদের চেষ্টা করেছেন। ওয়ার্ল্ড আর্চারি ২০১৯ সালের বর্ষসেরা বাংলাদেশী কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক এবং বর্ষসেরা আর্চার রোমান সানার নাম ঘোষণা করে। খেলা শেষে পদক গ্রহণ করে সেখান থেকে ভিডিওবার্তায় নারী আর্চার দিয়া সিদ্দিকী বলছিলেন, ‘এ ধরনের ফাইনালে খেলতে হলে অনেক অভিজ্ঞতা দরকার হয়। আমি নতুন। নতুন হিসেবে পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে। অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পেরেছি।’ রোমান সানা বললেন, ‘ফাইনালে ওঠার ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরেছি। আমরা রৌপ্য পদক জয় করেছি।’ তবুও কম না, ফাইনালে উঠে লড়াই করে হেরেছে একটা ইতিহাস রেখে এসেছে সুইজারল্যান্ডের লুজানে।

লুজান শহরটা গত কিছু দিন ধরে বাংলাদেশের আর্চারদের কাছে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল। আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজিব উদ্দিন চপল আগেই জানিয়েছিলেন কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে এবারই প্রথম বাংলাদেশ লড়াই করল। এটা ছিল স্বপ্নের ফাইনাল। খেলোয়াড় কোচ নিজেরাও বুঝতে পারেননি ফাইনালে ওঠার পারফরম্যান্স করে ফেলবেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কানাডার মতো শক্তিশালী দলকে রোমান-দিয়া জুটি হারিয়েছিল ৫-২ সেটে। তার আগে হারিয়েছে ইরান, জার্মানি, স্পেনকে। এমন পারফরম্যান্স করতে পারবেন এটা নিজেরাও ভাবেননি।

একের পর এক চমক দেখিয়ে ফাইনালে ওঠার পর বাংলার আর্চারদের স্বপ্নটা আরো বড় হয়ে দেখা যায়। বাংলাদেশ হয়তো ইতিহাস গড়বে। কিন্তু এত বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের বাধা পেরিয়ে আসতে পারেনি। বাংলাদেশের আর্চাররা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে পারে। সেটা লুজানে অন্যান্য দেশ খেলতে এসে চর্মচক্ষে দেখেছেন। লুজানে বাংলাদেশে আর্চারদের পারফরম্যান্স সবার নজর কেড়েছে। প্রতিপক্ষ দেশগুলো দেখে গেছে বাংলাদেশ উঠে আসছে। ঢাকায় ফিরে বাংলাদেশের আর্চাররা ফ্রান্সে যাবেন আরেকটি টুর্নামেন্ট খেলতে।