গত ১২ মে ইত্তেফাকে প্রকাশিত মেঘনা পালের ‘বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন’ লেখাটি পড়ে আমি মুগ্ধ ও ব্যথিত হয়েছি। মুগ্ধ হয়েছি মেঘনার দাদুর জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখে। ব্যথিত হয়েছি তিনি দেশছাড়া হওয়ার পর শেষজীবনে নিজের জন্মভিটা দেখতে না পারার কারণে। মেঘনা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি তার দাদু (মায়ের বাবা) শ্রী প্রফুল্ল কমল সেনগুপ্তকে ২৪ মে তার জন্মদিনে একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান, তবে তার জন্মদিনটি অপূর্ব হয়ে উঠবে। আমরা আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এই লেখাটি দেখেছেন এবং সেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। উল্লেখ থাকে যে, মেঘনার দাদুর আদি বাসস্থান ছিল বাংলাদেশের বরিশালের নলচিড়া গ্রামে। তার ছোটবেলার ১৬টি বছর ঐ গ্রামেই কেটেছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় আমার দাদু ও তার পরিবার চোখের জলে ভিটেমাটি ছেড়ে কলকাতায় চলে আসতে বাধ্য হন। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ প্রায় ৭৪ বছর। তিনি এখন প্রায়ই বলেন, যেই মুহূর্তে তিনি চলে যাবেন সেই মুহূর্তেই তার আত্মা নলচিড়া গ্রামে ফিরে যাবে। সেই যে জীবনানন্দ দাশ ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় বলেছেন যে তিনি ধানসিঁড়িটির তীরে আবার ফিরে আসবেন। জন্মস্থান নলচিড়ার প্রতি দাদুর এই আকুতি আমাদের চোখও সজল করে তোলে। শুভ জন্মদিন শ্রী প্রফুল্ল কমল সেনগুপ্ত মহাশয়। আমাদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা গ্রহণ করুন।
মৃধা রেজাউল
ফরিদপুর