বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, দেশে ৪৩ হাজার গ্রাহকের হিসাবে আছে মোট আমানতের অর্ধেক পরিমাণ অর্থ। করোনার এই সময়ে প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধাভোগী সম্পর্কে সরকারের কতটুকু নজর আছে এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। ২৫ লাখ ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা দিতে ব্যাংকের ম্যানেজাররা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তারা চেনাজানা লোকদেরই ঋণ দিতে ইচ্ছুক। অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের সদ্য প্রকাশিত ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র :ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ গবেষণা গ্রন্থটির বিষয়বস্তুর ওপর ১৩ সিরিজ জুম ওয়েবিনারের ‘বৈষম্য হ্রাস ও শোভন সমাজ প্রতিষ্ঠা :রাষ্ট্র-সরকার টাকা পয়সা পাবে কোথায়? কালো টাকা, অর্থ পাচার, সম্পদ কর ইত্যাদি’ শীর্ষক ৯ম ওয়েবিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ওয়েবিনারটিতে আলোচক হিসেবে অংশ নেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাকনেজ স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিউর রহমান। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সহসভাপতি এ জেড এম সালেহ ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন।
আলোচনায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বৈষম্যের সবচেয়ে খারাপ রূপ হলো সুযোগের বৈষম্য। বাংলাদেশে আড়াই কোটি মানুষ কর দেওয়ার যোগ্য কিন্তু কর দেন মাত্র ২৫ লাখ মানুষ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের সমস্যা সমাধানে বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, পিকেএসএফদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে হবে, প্রয়োজনে এসব উদ্যোক্তাদের ১ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের আশ্রয় নিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে বৈষম্য ও অসমতার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ৪৩ হাজার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের হাতে এখন সমগ্র ব্যাংক আমানতের অর্ধেক পুঞ্জিভূত।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তার আলোচনায় বলেন, বিশ্ব ব্যবস্থায় একটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো বিশ্বের নিরাপত্তা বিধানের প্রধান দায়িত্ব যে বৃহত্ শক্তিগুলোর তারাই মানুষের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানোর কাজটি করছে। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ এবং যুদ্ধাস্ত্রের জন্য যে পরিমাণ ব্যয় করা হয় তার ১ শতাংশ টাকাও মানুষের জন্য ব্যয় করা হয় না। তিনি বলেন বাংলাদেশে ধনিক শ্রেণির বৃদ্ধির হার বিশ্বে সর্বোচ্চ, একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের হারও সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে বৃহত্ প্রকল্পগুলোর নির্মাণ ব্যয় বিশ্বে সর্বোচ্চ কারণ এর মধ্যে আছে ভয়াবহ দুর্নীতি যেটা সম্ভব হয় জবাবদিহিতার অভাবে। অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিউর রহমান তার আলোচনায় বলেন পরিবেশকে উপেক্ষা করে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হলে সে উন্নয়ন টেকসই উন্নয়ন হবে না।