নিখোঁজের আট দিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর লাশ পাওয়া গেল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে। ঐ শিক্ষার্থীর নাম হাফিজুর রহমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী। হাফিজুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘মাইম অ্যাকশনের’ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। গতকাল হাফিজুর রহমানের বড় ভাই হাবিবুর রহমান ঢামেক মর্গে তার লাশ শনাক্ত করেন।
হাফিজুর রহমানের বড় ভাই হাবিবুর রহমান জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। ঈদের পরদিন ১৫ মে সকালে হাফিজুর রহমান গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। সেদিন সন্ধ্যায় তার মা তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেছেন। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিজ এলাকার থানায় জিডি করা হয় এবং শাহবাগ থানায়ও বিষয়টি জানানো হয়। গতকাল রবিবার শাহবাগ থানার ওসি তাদের জানান, হাফিজুর রহমানের মতো দেখতে এক জনের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রয়েছে। খবর পেয়ে তিনি ওসির সঙ্গে দেখা করলে ওসি তাকে মর্গে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তার ভাই হাফিজুর রহমানের লাশটি শনাক্ত করেন।
শাহবাগ থানার ওসি মামুনুর রশীদ জানান, গত ১৫ মে ২৩-২৪ বছরের এক যুবক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে এসে চিত্কার করে বলতে থাকে ‘আমাকে মাফ করে দাও! আমাকে মাফ করে দাও!’। এরপর তিনি ওখানকার ডাব বিক্রেতার কাছ থেকে দা নিয়ে নিজের গলায় চালিয়ে দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে আশপাশের লোকজন ঘিরে ধরলে তিনি দৌড়ে মেডিক্যাল কলেজের বহির্বিভাগের সামনে চলে যান। সেখান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে রিকশায় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে লাফ দেন। পরে জোর করে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। মেডিক্যালে তার চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়। তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। তাকে বাঁচানোর ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করলেও রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান। পরে সিআইডি টিমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসেন।
শাহবাগ থানার ওসি বলেন, সাধারণত পরিচয়হীন লাশ হলে আমরা তা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে দিয়ে দিই। কিন্তু ঐ যুবকের লাশটি আমরা ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাখার ব্যবস্থা করি। তার বড় ভাই হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ঢাকায় আনা হলে তিনি লাশটি শনাক্ত করেন।
ওসি মামুনুর রশীদ আরো বলেন, এ ব্যাপারে গত ১৫ মে রাতে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পুলিশ এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। এছাড়া তার পরিবার বা বন্ধু মহলের কেউ অভিযোগ করলে সে অনুযায়ী তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’