বিটিভির গানের অনুষ্ঠান ‘এসো গান শিখি’তে পাপেটের কণ্ঠ দিয়ে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন নির্মল রায়। এছাড়া তার কাছে গান শিখে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন দেশের অনেক শিল্পী। গুণী এই মানুষটি নিজের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। কথা বলেছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজ সম্পর্কে জানতে চাই—
বর্তমানে হাতে কোনো কাজ নেই। টিভির প্রোগ্রামটা বন্ধ রয়েছে, সুরবিহার মিউজিক স্কুলের গানের ক্লাস, এমনকি দু-একটি টিউশন করে সংসার চালাতাম সেই রাস্তাও করোনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন না খেয়ে মরার মতো অবস্থা আমার।
আপনি গান শিখিয়ে এবং গানের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনপ্রিয় অনেক শিল্পী তৈরি করেছেন। আপনার এই দুঃসময়ে তাদের সহযোগিতা কেমন পাচ্ছেন?
খুব কষ্ট লাগে এটা ভাবলে। অনেকের শিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে কত ভূমিকাই না রেখেছি। যারা এখন অনেক বড়মাপের শিল্পী হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। করোনার আগেও দেখা হতো। কিন্তু আমার এই খারাপ সময়ে কাউকেই পাশে পাইনি। বেঁচে আছি, না মরে গেছি খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।
ফেরদৌসী রহমানের এসো গান শিখিতে কার্টুনের কণ্ঠ দিতেন। যা ভীষণ জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান ছিল। পর্দার আড়ালে থেকে দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পেতেন?
অনেক প্রতিক্রিয়া পেতাম সে সময়। এখনো যে পাই না, তা না। কিন্তু এখন অনেক টিভি হওয়ার কারণে সেটা কিছুটা কমেছে। সে সময় ফোন, চিঠি, এমনকি যারা গান শিখতো তাদের বাবা-মায়েরা এসে প্রতিক্রিয়া জানাতো। অনেক ভালো লাগতো। এত আনন্দ পেতাম যে, বলে বোঝানো যাবে না।
ফেরদৌসী রহমানের সঙ্গে পরিচয় কীভাবে হয়েছিল এবং তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আমি ফেরদৌসী রহমানের স্কুলে শিক্ষক ছিলাম। আব্বাস উদ্দিন সংগীত একাডেমিতে গান শেখাতাম। সেখানের শিক্ষার্থীরাও এসো গান শিখিতে আসতো। তারপর বিটিভিতে রেকর্ডিং করতাম একসঙ্গে। শিক্ষক-সহকর্মী হিসেবে বলবো অসাধারণ একজন শিল্পী তিনি।
জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও বিটিভি থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে কী বলবেন?
আমি তো দূরে সরে যাইনি। হয়তো আমার ভাগ্য আমার পক্ষে ছিল না, তাই অন্য কোনো প্রোগ্রাম বা কাজে যুক্ত হতে পারিনি।
সে সময়ের এমন কোনো স্মৃতি আছে যা এখনো তাড়িত করে?
তখন শাওন, বিপাশা, আবিদাসহ এখনকার অনেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পী গান শিখতে আসতো, আড্ডা দিতো। অনেক ভালো লাগতো। যদিও এখনো মাঝে মাঝে এসে আড্ডা দেয়। তারপরও সেই দিনগুলোকে মিস করি।