আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট আয়ের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ এবং তিন বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ)। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম বলেন, করোনায় শুধু শিক্ষার্থীই নন, শিক্ষকরাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম অর্থসংকটে নিপতিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকেই পেটের তাগিদে শিক্ষকতা পেশা ত্যাগ করে ভিন্ন পেশায় নাম লিখিয়েছেন। এসব দিক বিবেচনায় করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শিক্ষাকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে বাজেটে মোট আয়ের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা এবং ক্রমশ তা ২০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ অর্থবছরের বাজেটেই তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও পরবর্তী তিন অর্থবছরে উক্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সমগ্র শিক্ষাকে জাতীয়করণের আওতায় আনতে হবে। তবে জাতীয়করণের সূচনা অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরেই করতে হবে।
তিনি এফিলিয়েশনপ্রাপ্ত নন-এমপিও মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা (স্বতন্ত্র ইবতেদায়িসহ) এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি অনুরূপ বাড়িভাড়া, মেডিক্যাল ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উত্সব ভাতা এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের আর্থিক সংকট নিরসনের জন্য আসন্ন বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি অবিলম্বে কার্যকরেরও দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, সহসভাপতি প্রফেসর সাজিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।