তীব্র দাবদাহে লিচুর রাজধানী খ্যাত ঈশ্বরদীর লিচুবাগানে শ্রমিকসংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় বাগানমালিক ও চাষিরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে গাছ থেকে লিচু ভেঙে বাজারজাত করতে চাইলেও শ্রমিকসংকটের কারণে সম্ভব হচ্ছে না। সোমবার সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ঈশ্বরদীতে প্রায় পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমিতে লিচুবাগান রয়েছে। বাগানে বহিরাগত এবং এলাকার নারী ও পুরুষ সবাই মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এমনকি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে গাছ থেকে লিচু ভাঙা ও আঁটি বাঁধার কাজ করে। তিন থেকে চার ঘণ্টা কাজ করলে ৩০০-৪০০ টাকা উপার্জন হয়। তাছাড়া বাগানে কাজ করতে এলাকার লোকজনের লজ্জাবোধও নেই। তাই এ মৌসুমে লিচুবাগানে কাজ করা এলাকায় প্রথা হয়ে গেছে। কিন্তু এবারে তীব্র দাবদাহে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। গত কয়েকদিন ধরে এখানকার তাপমাত্রা ৩৭-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করছে। প্রখর রৌদ্রতাপ আগুনের হল্কার মতো লাগছে শরীরে। আবহাওয়া অফিস বলছে, চলমান মাঝারি তাপ প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরম বেশি।
এ অবস্থায় তিন-পাঁচ ঘণ্টা কাজের জন্য ৫০০ টাকা মজুরিতেও শ্রমিক মিলছে না। লকডাউনে এতদিন দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় বাইরে থেকেও শ্রমিক আসতে পারেনি। এরই মধ্যে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ঝড়বৃষ্টি হলে লিচুচাষিদের চরম বিপর্যয় ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, এ সময় নিয়মিত ও মৌসুমি প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক লিচুবাগানে কাজ করে। লকডাউনের কারণে বাইরে থেকে যেমন শ্রমিক আসতে পারেননি, তেমনি এলাকার নারী-পুরুষ-ছাত্র কেউই এই তীব্র গরমে বাগানে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে।