ঢাবিতে অনলাইন পরীক্ষার বিষয়ে এখনো প্রস্তুতি নিতে পারেনি অনুষদগুলো

করোনা মহামারীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো অনলাইনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় চলতি মাসের ৬ তারিখের একাডেমিক কাউন্সিলে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী ১ জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কাউন্সিল সভায় দুই সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতির প্রস্তাবনা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ওই সিদ্ধান্তের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি অনুষদগুলো। অনুষদের ডিনরা বলছে, এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি, আলোচনা চলছে। বিভাগগুলো সুপারিশ দেওয়ার পর প্রস্তাবনা দিবেন তারা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলছেন, অনুষদগুলো কাজ করছে, কোন কোন বিভাগে পরীক্ষাও চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডিন বলেন, জুলাইয়ের এক তারিখ থেকে পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। অনুষদগুলো এখন থেকে প্রস্তুতি না নিলে পরীক্ষা গ্রহণ অনেকটা পিছিয়ে পড়বে। এতে শিক্ষার্থীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, করোনা মহামারীতে দ্বিতীয় ধাপে লকডাউন ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এখনো পর্যন্ত সে ঘোষণা অব্যাহত আছে। যার কারণে কোন সভা ডাকা সম্ভব হয়নি। অফিস খুলে দিলে আমরা নির্দেশিকা প্রস্তুত করা শুরু করবো।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা বিভাগগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাবনা চেয়েছি। ২৭ তারিখ পর্যন্ত তারা প্রস্তাবনা দিবে। সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মঈন বলেন, ৬ তারিখের একাডেমিক কাউন্সিলে নির্দেশিকা তৈরির জন্য বলা হয়েছিল। আমরা বিভাগগুলোর সাথে আলোচনা করছি। শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা হয় এমন সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করবো।

এ বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, অনেকগুলো অনুষদ সভা করেছে, ঈদের বন্ধের কারণে অনেকেই সভা করতে পারেনি। আমরা তাগিদ দেবো অনুষদগুলো যাতে বিভাগ এবং শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে অতিশীঘ্রই প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

কিভাবে পরীক্ষা হতে পারে: পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনটি পর্যায়ের কথা বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার প্রস্তুতি পর্ব, পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য গাইডলাইন প্রস্তুত। এরই মধ্যে চলমান নিয়ম অপরিবর্তিত রেখে অনলাইন পরীক্ষার কিছু সংযোজন আনা হতে পারে। চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় কমিয়ে অনুষদ ভেদে ১ থেকে দুই ঘণ্টা করা হতে পারে। এতে করে কমতে পারে প্রশ্নের পরিমাণ ও মান। এক্ষেত্রে পরীক্ষা এবং বিশ^বিদ্যালয় সংক্রান্ত ফি জমাদানের বিষয়টিও অনলাইন মাধ্যমে করার চিন্তা করছে অনুষদগুলো। অনুষদগুলো নির্দেশিকা প্রস্তুতের পর তা আগামী একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপিত হবে। সেখানে অনুমোদন পাওয়ার পর তা নির্দেশনা হিসেবে আসতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, গত একাডেমিক কাউন্সিলে অনুষদগুলো আমরা তিনটি পর্যায়ের কথা চিন্তা করছি। অনলাইন পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি, পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য গাইডলাইন প্রস্তুত। অনুষদগুলো সে নির্দেশনা দিবে তা আগামী একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপিত হবে। 

ইত্তেফাক/এমআর