মাধব রায়
সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
কমলা বললেন-তাহলে তো বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অসম বিতর্কের অবতারণা হলো এবং বিজ্ঞানই জয় লাভ করল।
হ্যাঁ, বললেন নীলকান্তবাবু। এই বিতর্ক ডারউইনের বিবর্তনবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে অসামান্য অবদান রাখল। তিনি শাস্তির হাত থেকে পরিত্রাণ পেলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে ডারউইন ১৮৩৯ সালে রয়্যাল সোসাইটির সদস্যপদ এবং ১৮৬৪ সালে কোপলি পদকসহ অন্য আরও অনেক পদক পেলেও কোনও রাজকীয় সম্মান পাননি। কারণ তখন পর্যন্ত রাণী ভিক্টোরিয়া ডারউইনের মতবাদটি গ্রহণ করতে পারেননি।
রাণীও তাহলে বিজ্ঞানমনস্ক ছিলেন না, বলল রেখা।
কিন্তু তুমি তো এগুলো সব কয়েকশ বছর আগের কথা বলছ বাবা, এখনও কি এরকম ঘটে? অণু বলল।
নীলকান্তবাবু বললেন-ঘটে না মানে? এইতো মাত্র একশ বছর আগে, মহাকাশ যানের জনক হেরমান ওবের্থ-এর তৈরি রকেট নিয়েও কতজন কত অবজ্ঞা দেখিয়েছে। ১৯১৭ সালে ১০ টন ভরের একটা রকেট তৈরি করেন হেরমান ওবের্থ। এর ব্যাস ৫ মিটার আর লম্বা ২৫ মিটার। জ্বালানি হিসেবে এতে অ্যালকোহল আর অক্সিজেন ব্যবহার করার কথা চিন্তা করলেন তিনি। তাঁর এই কর্মকাণ্ড কেউ বিশ্বাস করল না। সবাই বলল-এ জিনিস কখনও উড়তে পারবে না। এরপর মহাকাশে ভ্রমণ সংক্রান্ত দুটো বই লিখলেন ওবের্থ। ১৯২৩ সালে A Rocket of Planetary Space এবং ১৯২৯ সালে Means of Space Flight। এই বই দুটোরও সমালোচনা করলেন অনেকে। বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যাচার ওবের্থ এর বইয়ের সমালোচনা করে প্রবন্ধ লিখল- মহাকাশ যাত্রা হয়ত সম্ভব হবে, কিন্তু সে হবে মানবজাতির ধ্বংসের কিছু আগে।
কণিকা এতক্ষণ চুপ করে ছিল। সে বলল-মহাকাশযাত্রা তো এখন ঢাকা সিলেট বাসযাত্রার মতোই। কিন্তু এতবড় পত্রিকা ন্যাচার এটি বলল!
অণু বলল-কিন্তু বাবা, তাও তো তুমি একশ বছর আগের কথা বলছ! এখনও কি এরকম ঘটে?তাহলে ইদানিংকার ঘটনা বলি? বললেন নীলকান্তবাবু। মাত্র কিছুদিন আগে ১৯৫৭ সালে একজন বিজ্ঞানব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞান না বোঝা সাধারণ মানুষ নয়, গ্রিনউইচ মান মন্দিরের অধ্যক্ষ স্যার হ্যারল্ড স্পেনসার বলেছিলেন মঙ্গলে তো মানুষ কখনোই যেতে পারবে না, এমনকি চাঁদেও নয়। চাঁদে যাবার ভবিষ্যত্বাণী যিনি করেছিলেন, তাকে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। এর মাত্র কয়েকদিন পর ১৯৬৯ সালের ২০ জুন অ্যাপোলো- ১১ চাঁদের বুকে পা রাখল। নিল আর্মস্ট্রং, এডউইন-ই-অলড্রিন ও মাইক্যাল কলিন্স চাঁদে পা রাখেন। আর ভারতের মঙ্গল যান মঙ্গলায়ন ২০১৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলের কক্ষপথে ঢুকে ছবি পাঠায়। কোনদিন মঙ্গলে মানুষের পদচিহ্ন পড়বে, সেই অপেক্ষায় এখন মানুষ দিন গুণছে।
কমলা বললেন-সেই আশা সফল হোক, আর কোনও বিজ্ঞানীকে যেন নিগ্রহের স্বীকার না হতে হয়।