বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে সদ্য পদায়ন হওয়া ড. এএস কাইউম উদ্দিনের যোগদান ঠেকাতে এবার কলেজের সব গেট বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৫ মে) সকাল ৯টা থেকে ব্রজমোহন কলেজের শতবর্ষী গেট, শহীদ মিনার গেট এবং মসজিদ গেট আটকে দিয়ে ভিতরে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা।
এতে কলেজে জরুরি কাজে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে, পাশাপাশি কলেজের মধ্যে থাকা সোনালী ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে আসা ব্যক্তিদের বাধ্য হয়ে দেয়াল টপকে ব্যাংকে আসতে হয়েছে। তবে কেন তারা গেট বন্ধ করে দিয়েছেন সেই বিষয়ে উত্তর মিলেনি।
২০ মে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান ড. এএস কাইউম উদ্দিনের একই কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন হয়। তবে তিনি এখনো যোগদান করতে পারেনি কর্মস্থলে। তিনি এই কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে নানা দুর্নীতি করেছেন এমন অভিযোগে তার যোগদান ঠেকাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। টানা চারদিন ধরে কলেজের প্রশাসনিক ভবন ও কলেজ অধ্যক্ষর বাস ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করলেও মঙ্গলবার কলেজের সকল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কলেজের প্রশাসনিক ভবনে জরুরী কাজে আসা বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নওশন আরা বলেন, কলেজে বেশ কয়েকটি কাজ রয়েছে। সার্টিফিকেটের বিষয়ে জানতে এসেছি। কিন্তু কলেজে ঢুকতে পারছি না। অনেক অনুরোধ করেও কাজ হচ্ছে না। আলিফ মাহামুদ নামে কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র বলেন, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজে এসেছি। গেট বন্ধ থাকায় এখন ভাবছি দেয়াল টপকে ঢুকবো। কলেজের মধ্যে থাকা সোনালী ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল দিতে এসে ভোগান্তিতে পরা একাধিক ব্যক্তি জানান, কলেজের সকল গেট বন্ধ করে দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিল দিতে এসে বিপাকে পরেছে তারা।
এসব বিষয়ে ব্রজমোহন কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান ড. এএস কাইউম উদ্দিন জানান, আমি কলেজে যোগদান করতে যেতে পারছি না। ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কারা এসব করছে সবাই জানে। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। যোগদান দিতে না পারার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে শীঘ্রই জানাবো। কলেজের অধ্যক্ষর সাথে কথা বলেছি, তিনি রিস্ক নিতে চাচ্ছেন না।
ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ ড. গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের জানান, গেট বন্ধ করে আন্দোলন করছে ওরা। আমি ওদের বলেছি যাতে কোনো সহিংস আন্দোলন না হয়। জরুরি কাজে যারা আসছে তাদের ঢুকতে দিতে বলা হয়েছে। অনেকে কাজ করেও গেছেন। এখন পর্যন্ত উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করতে আসেনি কাইউম সাহেব। আদেশে অবিলম্বে যোগদান করতে বলা হয়েছিলো। আমার সাথে কাইউম সাহেবের তেমন কোনো যোগাযোগ হয়নি।
ইত্তেফাক/এসজেড