আবারও ত্রাতা মুশফিক

জান-ই-আলম

ইনিংসের ৪২তম ওভারে প্রথম বার যখন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়েছিল, তখন ৮৫ রানে অপরাজিত মুশফিকুর রহিম। প্রায় ২৫ মিনিট পর শুরু হয়ে ১৪ বল হতেই আবারও বৃষ্টির বাধা। ৪৪তম ওভারে বৃষ্টি নামতেই ভোঁ দৌড়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ৮৫ রানে অপরাজিত মুশফিক। বৃষ্টির যে ইদুর-দৌড় খেলা চলছিল, সবার মনেই শঙ্কা জেগেছিল মুশফিকের সেঞ্চুরি নিয়ে। সময়ের বিষয়ও ছিল। কারণ নির্ধারিত সময় পার হলে যে বাংলাদেশ আর ব্যাটিংই পাবে না। চিন্তামুখর ৩৪ মিনিট শেষে খেলা শুরু হয়। দুই বলে ৩ রান নিয়ে ৯৯ তে পৌঁছান মুশফিক। ঐ ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে সাইফউদ্দিনকে। ডাগআউট থেকে টিম লিডার খালেদ মাহমুদ সুজনকেও দেখা গেল উঁচু স্বরে কথা বলছেন। আকাশ তখনো মেঘাচ্ছন্ন ছিল। তাই দুশ্চিন্তা বাড়ছিল মুশফিকের সেঞ্চুরিকে ঘিরে।

চামিরার প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদল করেন সাইফউদ্দিন। পরের বলটি ওয়াইড। দ্বিতীয় বলে ফাইন লেগ দিয়ে চার মেরে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। তবে উদ্যাপনে খুব বেশি উল্লাস করেননি তিনি। হেলমেট খুলে ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেছেন। বাংলাদেশের ডাগআউটে তখন করতালির জোয়ার। টাইগার শিবিরের কাছে এ সেঞ্চুরির গুরুত্ব অপরিসীম। গতকাল ইনিংস জুড়ে বারবার পা হড়কাতে থাকা বাংলাদেশ দলকে প্রায় একাই টেনে নিয়ে গেছেন মুশফিক। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে উইকেটে এসেছিলেন। ৪৯তম ওভারে আউট হয়েছেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। ততক্ষণে খেলেছেন ১২৭ বলে ১২৫ রানের (১০ চার) দায়িত্বশীল ইনিংস।

শুরুতে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে চার বলের মধ্যে তামিম-সাকিবকে হারানোর ধাক্কাটা বড় হতে দেননি মুশফিক। লিটনের সঙ্গে ৩৪, মোসাদ্দেকের সঙ্গে ২৫ রানের জুটি গড়েছেন তিনি। তবে পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তার ৮৭ রানের জুটিই বিপদ কাটিয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পাইয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। অষ্টম উইকেটে সাইফউদ্দিনের সঙ্গে মুশফিকের ৪৮ রানের জুটিতেই ২০০ পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। মাহমুদউল্লাহ ৪১, লিটন ২৫, তামিম ১৩, মোসাদ্দেক ১০, আফিফ ১০, সাইফউদ্দিন ১১ রান করেন।

গতকাল সাকিবকে (৬,৪৫১) টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে গেছেন মুশফিক (৬,৫৫৩), শীর্ষে তামিম (৭,৫১৭)। ওয়ানডেতে দেশের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিকও এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তার সামনে আছেন শুধু তামিম (১৩), সাকিব (৯)।

দুই বছর পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পেলেন মুশফিক। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে নটিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের পর কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ৯৮ রানের ইনিংস আছে তার। ১২৫ রানের ইনিংসটাই তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংসটা তিনি খেলেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেই দুবাইয়ে ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান

ব্যাটসম্যান                  ম্যাচ          রান

তামিম ইকবাল             ২১৫          ৭৫১৭

মুশফিকুর রহিম            ২২৬          ৬৫৫৩

সাকিব আল হাসান        ২১১          ৬৪৫১

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি

ব্যাটসম্যান                  ম্যাচ          সেঞ্চুরি

তামিম ইকবাল             ২১৫          ১৩

সাকিব আল হাসান        ২১১          ৯

মুশফিকুর রহিম            ২২৬          ৮