জ্যৈষ্ঠ মাস জুড়ে থাকে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ হরেক রকম ফলের আয়োজন। ফল খেয়ে ফলের বীজ যত্রতত্র ফেলতে আমরা অভ্যস্ত। অথচ ফলের বীজের যথাযথ ব্যবহার আমাদের জীবনে বহুবিধ উপকার সাধনে সক্ষম। বর্তমান সময়ে উচ্চ তাপমাত্রার অন্যতম একটি কারণ বন উজাড় বা বৃক্ষ নিধন। আর এই গ্রীষ্মকালের তাপদাহ হ্রাস করতে বৃক্ষের বিকল্প নেই, পাশাপাশি শীতকালেও বায়ুর গতি রোধ করে তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। সালোকসংশ্লেষণের জন্য বৃক্ষ বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ এবং অক্সিজেন নির্গত করে আমাদের বিশুদ্ধ বায়ু সরবরাহ করে। বন্যা প্রতিরোধ, নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ুর আকস্মিক পরিবর্তন ঠেকাতেও বৃক্ষের ভূমিকা প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকে যে মারাত্মক ক্ষতি করে, তা থেকে রেহাই পেতে গাছপালা প্রধান হাতিয়ার। এছাড়াও বর্ষায় বজ্রপাত পেতে রক্ষা পেতে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত বৃক্ষ অধিকহারে বাড়াতে হলে ফলের একটি বীজ বর্তমান সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সঠিক স্থান নির্বাচন করে যেমন নদীর পাড়, রাস্তার ধার কিংবা বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গাসহ অন্য যেসব জায়গায় গাছ বড় হওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে—এমন উপযুক্ত স্থানে ফলের বীজ ফেলি, নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করি।
আবু মো. ফজলে রোহান
নবগ্রাম, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা