ঘরবাড়ি কৃষিজমি
বিলীন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনার ভাঙনে দুর্ভোগে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বড়িকান্দি, ধরাভাঙ্গা, নুরজাহানপুর, মুক্তারামপুর, সোনাবালুয়া, মানিকনগর বাজার, চরলাপাং, কেদারখোলা, বাইশ মৌজা বাজারসহ নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, ব্যাবসায়িক দোকানপাট হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছেন অনেকেই।
গত শুক্রবার দুপুরে নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল বলেন, ‘নদীর পাড়ের মানুষের সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো নদী ভাঙন, মেঘনার ভাঙন রোধকল্পে ২০২০ সালে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু কাজের ধীর গতির কারণে অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
দেখা গেছে, নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের ধরাভাঙ্গা, নুরজাহানপুর, মুক্তারামপুর, সোনাবালুয়া, বড়িকান্দি, মানিকনগর বাজার, নয়াহাটি, চিত্রি, চরলাপাং, নজরদৌলত, গাছতলা, কেদারখলা, দুর্গারমপুরসহ এলাকার হাজার হাজার একর ফসলি জমিসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত এ ভাঙনের ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নবীনগর উপজেলার আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারসহ কয়েকটি গ্রাম মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বড়িকান্দি, ধরাভাঙ্গা, নুরজাহানপুর, মুক্তারামপুর, সোনাবালুয়া, মানিকনগর বাজার, চরলাপাং, কেদারখোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এ ভাঙনের ভয়াবহতা চরম আকার ধারণ করে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুর রহমান সোহেল বলেন, ‘ছোট বেলায় এক মাইল দূরে গিয়ে গোসল করেছি। আর এখন মেঘনার ভাঙনের কারণে আমাদের ঘরের কাছে নদী এসে গেছে। শত শত একর কৃষিজমি, বাড়িঘর, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।’ নুরজাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা ও জনশক্তি রপ্তানির সাবেক মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আশা ছিল ভাঙন প্রতিরোধের বাঁধটা দেখে যেতে পারব।’
বড়িকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ হারুত বলেন, ‘এভাবে মেঘনার ভাঙন অব্যাহত থাকলে একদিন উপজেলার সম্পূর্ণ মানচিত্রই পালটে যাবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘কুমিল্লার এম জাহের ঠিকাদারের মাধ্যমে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে এ প্রকল্পের কাজটি শুরু হয়। কাজের ধীরগতি ও অবহেলার কারণে নতুন করে এই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ঐ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’