হত্যাকাণ্ডের এক বছর

জর্জ ফ্লয়েডকে স্মরণ করল যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে এক বছর আগে পুলিশ হেফাজতে নিহত হয়েছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড। তার মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতে গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে সমাবেশ ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বর্ণবাদবিরোধী ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এই বিক্ষোভ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, ডালাস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি, মিনিয়াপোলিস ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে প্রতিধ্বনিত হয়েছে ফ্লয়েডের নাম। কারণ তিনি বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। গতকাল প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানান ফ্লয়েডের বোন ব্রিজেত ফ্লয়েড, মেয়ে জিয়ান্ন ফ্লয়েড এবং জিয়ান্নার মা রক্সি ওয়াশিংটনকে। খবরে বলা হয়, একান্তে এই বৈঠক হয়।

যুক্তরাজ্যেও ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন হয়েছিল। ফ্লয়েড হত্যার বর্ষপূর্তিতে দক্ষিণ লন্ডনের বাসিন্দা ইমরান আয়টন বিবিসিকে বলেন, এই আন্দোলনেই আমি আমার দাবিকে খুঁজে পেয়েছিলাম। আরেকজন আন্দোলনকারী বলেন, এখনো বর্ণবৈষম্য নিয়ে যুক্তরাজ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পায়।

২০২০ সালের ২৫ মে মিনেসোটার মিনিয়েপোলিস শহরে এক জন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ৪৬ বছর বয়স্ক জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেফতারের সময় তার গলায় হাঁটু দিয়ে জোরে চেপে বসে থাকেন। আর ফ্লয়েডকে হাঁসফাঁস করে বলতে শোনা যায়, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। তাতে কর্ণপাত করেননি ডেরেক শাওভিন নামের ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যুর কথা জানানো হয়। সে সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন আরো তিন পুলিশ সদস্য। এই হূদয়বিদারক ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। এরই মধ্যে ডেরেক শাওভিনকে ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বাকি তিন জনের বিচার আগামী বছরের মার্চে শুরু হবে।