চট্টগ্রামে গৃহবধূ মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন কিলিং মিশনের তিন সদস্য কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, আনোয়ার হোসেন ও মোতালেব মিয়া ওয়াসিম। মিতুর স্বামী তত্কালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের নির্দেশে তিন জনের প্রত্যেকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা পাঠানো হয়। টাকাটা বাবুল নিয়েছিলেন সাইফুল নামে তার এক ব্যাবসায়িক পার্টনারের কাছ থেকে। মুসা, ওয়াসিম ও আনোয়ারের অ্যাকাউন্ট নাম্বারগুলোর জোগানদাতাও ছিলেন বাবুল নিজেই। এরপর সাইফুল তার কর্মচারী মোখলেসুর রহমান ইরাদকে তিন জনের বিকাশ নাম্বারে টাকাগুলো পাঠানোর নির্দেশ দেন। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্যই দিয়েছেন মামলার অন্যতম সাক্ষী মোখলেসুর রহমান ইরাদ। চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফীউদ্দিনের আদালতে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র এসব তথ্য জানায়। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দীন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, মিতু হত্যা মামলায় মোখলেসুর রহমান ইরাদ নামে এক সাক্ষী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা ইত্তেফাককে বলেন, মামলার সাক্ষী মোখলেসুর রহমান ইরাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ইরাদ ছিলেন সাইফুলের প্রেসের কর্মচারী। সাইফুল গত ১১ মে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে গিয়ে ইরাদের মাধ্যমে টাকা বিকাশ করার কথা বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী আমরা ইরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই অনুযায়ী আজ তিনি স্বীকারোক্তি দিতে গিয়ে বাবুল আক্তারের নির্দেশে মুসাসহ তিন জনকে মোট ৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। তদন্তের স্বার্থে বাকি দুই জনের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
এর আগে গত ১১ মে সাইফুল ও মুসার আত্মীয় কাজী আল মামুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবুল আক্তারের নির্দেশে মুসাকে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। ঐ জবানবন্দির পর মিতু হত্যায় বাবুলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হয় পিবিআই। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মিতু হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবুল আক্তার ও সাইদুল ইসলাম সাকুকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই। রিমান্ড শেষে আদালত এই দুই জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে। মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান মিয়া। মিতু হত্যার দ্বিতীয় মামলাতেও এই তিন জনকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।