পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত কর্মকর্তা সজিব খাঁন (৩০) এনারগোসপেক মন্তাজ কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা পদে চাকরিরত এবং রাশিয়ায় থাকাকালীন সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
চাকরি দেওয়ার নামে সজিব খাঁন কর্তৃক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সেনাবাহিনীর অনুসন্ধানে ধরা পড়ে। মঙ্গলবার সেনা সদস্যরা তাকে আটক করে রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন বলে ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
ঈশ্বরদীর ফতেহ মোহাম্মদপুর এলাকার চাকরিপ্রার্থী ভুক্তভোগী জনৈক সৌরভ সরকার বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে সজিব খাঁনের নামে থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান আসাদ বুধবার (২৬ মে) রাত ১২টা ১৫ মিনিটে সজিবের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন।
আটককৃত সজিব খাঁন নরসিংদী জেলার ভেলানগর মানিক মিয়া রোড এলাকার মৃত জুনায়েদ খাঁনের ছেলে বলে জানা গেছে। ঈশ্বরদীতে গ্রীণসিটির সামনে দিয়ারসাহাপুর এলাকায় মিজানের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। রাশিয়ায় অবস্থান ও রুশ ভাষা জানার কারণে সজিব খাঁন এনারগোসপেক মন্তাজ কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে সহজেই চাকরি পেয়ে যায়। রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পদে চাকরির সুবাদে সে এলাকার বহু বেকার যুবককে চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করে।
রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, এই কর্মকর্তার প্রতারণার শিকার কয়েকজন চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনা সদস্যদের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সেনাসদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার এবং রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করে।
থানায় দায়েরকৃত সৌরভ সরকারের অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সজিব পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের কাছ থেকে সিভি, শিক্ষাগত যোগ্যতার ফটোকপি, জন্মসনদ, নাগরিকত্বের সনদ ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংগ্রহ করে। চলতি মাসেই সে প্রায় ৩০-৪০ জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
রাশিয়ায় অবস্থানের সময় সজিব খাঁন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বে দিতেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইত্তেফাক/এএএম