সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি ১৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

এবার এক লাফে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে ১৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। অথচ সর্বশেষ সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে এক মাসও হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ মে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে পাঁচ টাকা করে বাড়িয়ে দেন। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে লিটারে পাঁচ টাকার পরিবর্তে দুই টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ হয় ১৪১ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, দেশে চাহিদার ৯৫ শতাংশ ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আর আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সে হিসেবে দেশে সয়াবিন তেলের দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে।

গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে ভোজ্য তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। যেহেতু, ভোজ্য তেল একটি আমদানিনির্ভর পণ্য, তাই ভোজ্য তেলের বাজার দর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজার দরের উঠানামার ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে জানানো হয়। গত এক বছরের আন্তর্জাতিক বাজার দর পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয় জানায়, এক বছর পূর্বে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৫২ দশমিক ১১ টাকা ছিল। বর্তমানে তার মূল্য ১৩৫ দশমিক ৮৪ টাকা। এ হিসেবে সয়াবিন তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৬০ শতাংশ।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, ব্যবসায়ীদের সয়াবিনের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আজ এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি বৈঠক রয়েছে। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে গত ১৫ মার্চ কমিটি এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৩৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৬৬০ টাকা, খোলা সয়াবিন ১১৭ টাকা ও পামতেল ১০৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। আর ১৭ ফেব্রুয়ারি এই কমিটি প্রথমবারের মতো ভোজ্য তেলের দর নির্ধারণ করে। সে সময় প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১১৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিনের লিটার ১৩৫ টাকা ও পামঅয়েল ১০৪ টাকা বিক্রির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।