যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের অপরাধ তদন্তে নিয়োজিত নিউ ইয়র্কের প্রসিকিউটররা গ্রান্ড জুরি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অপরাধ আইনে ট্রাম্প ও তার প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হবে কি না—সেই সিদ্ধান্ত নেবে জুরি প্যানেল। আলজাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, এই আহ্বানের মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে তদন্তে সম্ভবত ট্রাম্প ও তার প্রতিষ্ঠানের অপরাধের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজ ছাড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রান্ড জুরি তাকে অভিযুক্ত করলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অপরাধ মামলার এটিই হবে প্রথম ঘটনা।
গতকাল বুধবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জুরি প্যানেলের আহ্বায়ক ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি সাইরাস ভ্যান্স। জুরি প্যানেল আগামী ছয় মাসে প্রতি সপ্তাহে তিন দিন বৈঠক করে নথিপত্র পরীক্ষা করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের কথা শুনবেন। আর তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্প ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হবে কি না—সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ওয়াশিংটন পোস্টে এই খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য ট্রাম্প আগেই তার বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তের এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলে বিবৃতি দেন। তার মতে, এই তদন্তের চেয়ে বড় দুর্নীতি আর কিছু নেই।
এ ব্যাপারে ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয়ও সিএনএনের কাছে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি সাইরাস ভ্যান্স ও তার দল দুই বছরের বেশি সময় ধরে ট্রাম্পের ব্যবসায়-বাণিজ্যের লেনদেন নিয়ে তদন্ত করছেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থাতেই যা শুরু হয়। ট্রাম্পের ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকঠাক কর দিয়েছে কি না, ঋণদাতা ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পদের মূল্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না—এসবই তদন্তে দেখার বিষয়।
সিএনএন জানায়, ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর লাখ লাখ পাতার নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় ট্রাম্প তার করসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ও তার দলের কাছে ট্রাম্পের করবিবরণী হস্তান্তর করার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তের আওতায় ট্রাম্প টাওয়ার, সেভেন স্প্রিং নামের তার একটা পারিবারিক এস্টেট, শিকাগোর একটি হোটেল ও কন্ডো টাওয়ারের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। এছাড়া তদন্তের আওতায় পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ট্রাম্প অর্থ দিয়েছিলেন কি না—সে বিষয়টিও আছে।
প্রথমে ট্রাম্পের বিষয়ে সিভিল আইনে তদন্ত শুরু হয়। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিটিশিয়া জেমসের কার্যালয় জানায়, তদন্ত অপরাধ আইনে গড়িয়েছে।