করোনা মহামারির মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন অন্তত ৬০০ নার্স। কিন্তু অর্থ বিভাগ থেকে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে সেখানে আছে মাত্র তিন জন নার্সের নাম। এ নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের নার্সদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগ থেকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনার অর্থ ছাড় করা হয়। এতে দেখা গেছে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। যাদের জন্য এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন, ১ হাজার ৬৮৪ জন চিকিৎসক, তিন জন নার্স ও ২১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী। প্রত্যেকে প্রণোদনা হিসেবে দুই মাসের মূল বেতন পাবেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয় শতাধিক নার্স কাজ করেন। এর মধ্যে ৪৮৯ জনই সিনিয়র স্টাফ নার্স। গত বছরের মার্চে কোভিড রোগী ধরা পড়ার পর কিছুদিন পরই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি অংশ করোনার জন্য নির্ধারণ করা হয়। পালাক্রমে সব নার্সকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। অথচ অর্থ বিভাগ থেকে যে প্রণোদনার অর্থ ছাড় করা হলো, সেখানে মাত্র তিন জন নার্সের নাম রয়েছে। নার্সরা প্রশ্ন তুলেছেন, মাত্র তিন জন নার্স কি শুধু করোনার দায়িত্ব পালন করেছেন?
একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, গত বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে সরকার ঘোষণা করে, যারা করোনার দায়িত্ব পালন করবেন তাদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। আমরা সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালাক্রমে এই দায়িত্ব পালন করেছি। এখন মাত্র তিন জনকে প্রণোদনা দেওয়া হলো। আমরা কী তাহলে দায়িত্ব পালন করিনি? তিন জন নার্স দিয়েই কি হাজার হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে ? এই ঘটনায় নার্সদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ দেওয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি।
করোনায় প্রণোদনার জন্য সরকার ইতিমধ্যে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
ইত্তেফাক/এএইচপি