বান্দরবান জেলার অন্তর্গত লামা একসময় ছিল মহকুমা, বর্তমানে উপজেলা। পাহাড় ও নদী ঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্যে শোভিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর জীবনধারাকে পুঁজি করে এখানে পর্যটনশিল্প গড়ে উঠতে পারে। লামার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকা—বিলছড়ি বৌদ্ধ বিহার, শীলের তুয়া স্থিত চংবট ম্রো পাড়া ও পাহাড়, পাহাড়ের গা দিয়ে বয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদী ও এর সেতু, ফাঁসিয়াখালী রাবার বাগান, শিশু কানন, নুনার বিলপাড়া পালিটুল বৌদ্ধ বিহার ইত্যাদি দেখতে পর্যটকরা প্রায় প্রতিদিনই আসেন এই পাহাড়িয়া পথে।
মাতামহুরী নদী বিধৌত অঞ্চলে অবস্থিত লামার নামকরণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মূলত আহলামা রোয়া বা পাড়া থেকে লামা নামের উত্পত্তি হয়েছে। কারো কারো মতে, লামা শব্দটির অর্থ নিচের দিক বা ভাটি এলাকা—এটি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শব্দ। পার্বত্য অঞ্চলে মাতামুহুরী নদীর ভাটি এলাকায় অবস্থিত বলেই নাম ‘লামা’। আবার উপজাতিদের কিংবদন্তি অনুসারে জানা যায়, বর্তমানে লামামুখ এলাকায় আহলামা নামে এক মার্মা উপজাতি বসবাস করত। সে ছিল পরম সুন্দরী, ঐ সময়ে তার আর্থিক সচ্ছলতার ও প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে আহলামা রোয়া বা পাড়া নামকরণ হয়। পরবর্তীকালে লামা খাল, লামা বাজার, মৌজা ইত্যাদি তার নামে হয়েছে।
ব্রিটিশ শাসনামলে কক্সবাজারের চকোরিয়া, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া থেকে বাঙালিরা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতে এসে এখানে স্থায়ী হয়। লামায় থানা স্থাপিত হয় ১৯২৩ সালে। ১৯৭০ সালের ৯ অক্টোবর লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও গজালিয়া থানা নিয়ে লামায় মহকুমা গঠিত হয়। ১৯৮২-৮৩ সালে লামা মহকুমাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণা করা হলেও লামায় জেলা স্থাপনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। একইসঙ্গে বাইশারী ও গজালিয়া থানা বিলুপ্ত হয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রূপান্তর হয়।
লামার ইউনিয়নসমূহ—গজালিয়া, লামা সদর, ফাঁসিয়াখালী, আজিজনগর, সরই, রূপসীপাড়া, ফাইতং। লামা অপরূপ এক সমৃদ্ধ জনপদ। মন ভোলানো—যেন এক রূপকথার দেশ।
লিয়াকত হোসেন খোকন