হাওয়া খেতে খেতে

আমার এখন ঘুম পাচ্ছে; আমি ঘুমিয়ে পড়লাম

কেউ যেন জাগাতে না আসে; ঘুমের ভিতরে দেখি

আমাকে কাঁদাতে যার জন্ম হলো তার চোখে জল

কী সুন্দর জলবিন্দু পাখি হয়ে বাতাসে ওড়ায়

নক্ষত্রের রাশি রাশি আলোকণা, কত স্বপ্নদানা!

আমাকে কাঁদিয়ে তার কী আনন্দ— কী যে মহা সুখ!

ওই সুখে অন্য এক গন্ধ আছে, নেশা আছে খুব;

অব্যক্ত কান্নার ধ্বনি আমি শুনছি হূদয় নিখিলে,

যে হূদয়ে মরুভূমি ছাড়া আর অন্য ভূমি নেই?

আছে আছে রক্তমাখা এই মাটি আমার বিছানা।

আমি ক্লান্ত পর্যটক; আহা! মুখ থুবড়ে পড়ে আছি

অশ্বহীন ভাঙা রথে— ধাবমান রতিযানে চড়ে

দেবী সতী বৃন্দাবনে নিদ্রাহীন পতির সেবায়;

ঘুমের ভিতরে আমি আরও দেখি, কত এলোমেলো

বিচিত্র খেলার দৃশ্য : পূজা শেষে নগ্ন পূজারিণী

কী সুন্দর ভঙ্গিমায় শুয়ে আছে দেবতার বুকে,

প্রেমখালি নদী জলে ভেসে ওঠে পূর্ণিমার চাঁদ—

আমাকে দেবে না কেউ আর সমুদ্রের লোনা জল!

আমি হাওয়া খেতে খেতে একদিন ঠিক চলে যাবো

ঘুমের গাড়িতে চড়ে তোমাদের সবুজ উঠোনে।