প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের গায়ে আগুন, অতঃপর মৃত্যু!

জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনা করেছিলেন গৃহবধূ রিতা বেগম (৩৫)। তার পরিকল্পনার সঙ্গে স্বামী মোসলেম উদ্দিন ও মেয়ে আরিফাও জড়িত ছিলেন। কিন্তু নিজের শরীরে লাগানো আগুন নিভাতে ব্যর্থ হওয়ায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান গৃহবধূ রিতা বেগম। গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার ঘটনায় তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার দাবি করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া তার কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত ৩০ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার চকচাপাই গ্রামের মোসলেম প্রামাণিকের স্ত্রী রিতা বেগম অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হন। পর দিন বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের মা রোকেয়া বেওয়া বাদী হয়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রিতা বেগমকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী আলামিন প্রামাণিক, সানোয়ার প্রামাণিক ও জলিল প্রামাণিকের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে পারেন, গত ২৪ এপ্রিল অজ্ঞাতনামা একটি নম্বর থেকে রিতা বেগমের প্রতিবেশী ময়েন উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একটি খুদেবার্তা (এসএমএস) আসে। ঐ খুদেবার্তায় রিতা বেগম ও তার পরিবারকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়। সেই খুদেবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে রিতা বেগম গত ২৯ এপ্রিল প্রতিপক্ষ আলামিন, সানোয়ার ও জলিল প্রামাণিকের বিরুদ্ধে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এই ঘটনার পর দিন রাতে রিতা বেগম অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হন এবং ১ মে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। অজ্ঞাতনামা মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ মোবাইল ফোনটির মালিক সাইফুল ইসলামকে শনাক্ত করেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২৪ এপ্রিল মোবাইল ফোনসহ তার নম্বরটি রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহনী বাজারে হারিয়ে যায়। পরে পুলিশ মোবাইল ফোনটি রিতা বেগমের বাসা থেকে উদ্ধার করে। হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ও সিম উদ্ধারের পর বুধবার রিতা বেগমের মেয়ে আরিফা খাতুন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এসএমএস ও রিতা বেগমের মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।