ফলের মাসে ফল খাচ্ছেন। জেনে খাচ্ছেন, ফলটা বিষমুক্ত কি না? এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।
নানা রকম সুমিষ্ট ফলের সমাহারে সমৃদ্ধ গ্রীষ্মকালকে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। কম সময়ে ফল সরবরাহ করতে তারা এই পথ অনুসরণ করে। সাধারণ মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই ফরমালিনযুক্ত ফল কেনে। এই ফল শুধু শারীরিক ক্ষতি নয় বরং ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও একটি মানসিক ভীতি সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা সাধারণ উভয়কেই সচেতন হতে হবে।
সারওয়াত কাশফী কনয়
সিলেট
বর্তমানে ফলের রং দেখে বোঝা যায় না কোনটা ফরমালিনবিহীন ফল। বরং ফরমালিনযুক্ত ফলই দেখতে অনেক টাটকা ও পাকা টসটসে দেখায়। অর্থাত্ যে ফলের চেহারা যত ভালো সে ফল তত বেশি বিষযুক্ত। এবং এই ফল শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর। ফল শরীরে ভিটামিনের অভাব পূরণ করে। কিন্তু ক্যামিকেল দিয়ে পাকানো ফল খাওয়া আর বিষ খাওয়া এক কথা। টাটকা ও অধিক রং যুক্ত ফলের রসে নিহিত থাকে বিষাক্ত বিষ। সুতরাং রং দেখে নয় বরং টাটকা ও সতেজ দেখে ফল কিনুন।
ফারহানা ইয়াসমিন
অভয়নগর, যশোর
মৌসুমি ফলে সয়লাব ফলের বাজার। দেখতে খুব আকর্ষণীয় হলেও বেশিরভাগ ফলই মানবদেহের জন্য বিষ। এসব ফল খেয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি লাভের পরিবর্তে মানবদেহে বাসা বাঁধছে ক্যান্সারসহ নানা ধরনের মরণব্যাধি রোগ। তাই নিজ উদ্যোগে এসব ফল বিষমুক্ত করে খাওয়া উচিত। বাজার থেকে কিনে আনা ফল সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। বরং ফলগুলো আধা ঘণ্টা বা তারচেয়ে বেশি সময় ধরে পরিষ্কার পানিতে ডুবিয়ে রাখলে তা ফরমালিনমুক্ত করা সম্ভব। এছাড়াও একটি বড় পাত্রে এক চামচ ভিনিগার নিয়ে তাতে ফলগুলো আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ফরমালিনমুক্ত করা যায়। চারদিকে এত ভেজালের মধ্যে এভাবেই নিজেদের ও পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
সাদিয়া সরকার অনি
সোনারগাও, নারায়ণগঞ্জ
গ্রীষ্মকাল হচ্ছে ফলের মৌসুম। প্রকার এবং পরিমাণ উভয়ই পর্যাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও নির্ভেজাল বিষমুক্ত ফল সংগ্রহ করা আজ দুষ্কর। ব্যবসায়ীরা নিজ স্বার্থে অধিক মূলধনের আশায় অপরিপক্ব ফল গাছ থেকে সংগ্রহ করে নানা রকম রাসায়নিক প্রয়োগ করে বাজারজাত করছে। কেননা বাজারে নিত্য নতুন ফলের চাহিদা ও দাম উভয়ই বেশি। শুধু তাই নয়, রাজশাহীর আম বা দিনাজপুরের লিচু, দীর্ঘসময় সতেজ ও আকর্ষণীয় রাখতে নানা রং প্রয়োগ করা হচ্ছে যা কোনো ভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ফাতিমা তুজ জোহরা
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রূপ, সুঘ্রাণ ও স্বাদের বিচারে বৈচিত্র্যময় মৌসুমি ফল শিশুসহ সব বয়সি মানুষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উপকারের উত্স। কিন্তু অতি মুনাফার লোভের বশবর্তী হয়ে ফলন বৃদ্ধি, দ্রুত পাকানো এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ফলে প্রয়োগকৃত রাসায়নিক ও কীটনাশক মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অসাধু উত্পাদক ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর এমন গর্হিত অপচর্চা রোধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আমাদেরও সর্বোচ্চ সচেতন ও সতর্ক হতে হবে।
আবু ফারুক
বান্দরবান
যে কোনো মৌসুমি ফল বিষমুক্ত তথা নিরাপদ না হলে শরীরে পুষ্টি যোগানের পরিবর্তে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। ফলন বৃদ্ধি ও বেশি দিন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নীতিবিবর্জিত অসাধু ব্যবসায়ীরা ফলে বিভিন্ন মাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহার করেন। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
আবুল কাশেম
বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম
মৌসুমি ফলের বিপুল চাহিদাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সময়ের আগেই ফল পাকানো এবং অতিরিক্ত লাভের আশায় দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নানা ধরনের বিষ মিশিয়ে থাকে। বিষযুক্ত ফল খাওয়ার ফলে শরীরে বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী রোগ বাসা বাঁধে।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম
ফলের উত্পাদন, বাজারজাতকরণ ও বিপণনে জড়িতদের একাংশ রাসায়নিক প্রয়োগ করে ফলের পুষ্টিগুণ নষ্ট করে জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে অসাধুদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার আওতায় আনার পাশাপাশি জোরদার করতে হবে জনসচেতনতা কার্যক্রম।
এ এফ এম সালাহউদ্দীন
বান্দরবান
অধিকাংশ মানুষ ফল কেনার আগে সেটি বিষমুক্ত বা বিষযুক্ত কি না তা ভেবে দেখেন না। এটি দেখভাল করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের কারণ একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর, ঢাকা
ফলমূল, মাছ-মাংস কিংবা শিশু খাদ্য, সব কিছুতেই ভেজাল। মাঝেমধ্যে কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়, কিন্তুদৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতাও খুব জরুরি।
মো. জিল্লুর রহমান
গেন্ডারিয়া, ঢাকা
ফল মানুষের দেহ গঠন এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কিন্তু মাঝেমধ্যে আমরা ফলের নামে নিজেদের অজান্তেই বিষ খেয়ে থাকি। এই বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং বাগান মালিকরা যারা মুনাফার লোভে বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে। ব্যবসায়ীদের সততা, ভোক্তাদের সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকির মাধ্যমে বাজার থেকে বিষযুক্ত ফল নির্মূল সম্ভব।
ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা
ঝিকরগাছা, যশোর
রমজান মাস এলে ফলের দোকানে, আড়তে মোবাইল কোর্টের তত্পরতার খবর দেখা যায়। কিন্তু সারা বছর এমনটি দেখা যায় না। বাজারে যেন শতভাগ বিষমুক্ত ফল বিক্রয় করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
ফাহাদ
যশোর
আমাদের দেশে ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। সেই কারণে দেশীয় ফলমূল ত্রুটিযুক্ত ও বিষাক্ত কি না, তা আমরা জানি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে মনিটরিং করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দেশের সর্বসাধারণ এ ব্যাপারে সতর্ক হলে অবশ্যই আমরা ত্রুটিমুক্ত এবং সুস্বাদু ফল খেতে পারব।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই দেশীয় ফলে ভরে যায় আমাদের দেশ। কিন্তু বাজারে সরবরাহকৃত এসব ফল কতটা নিরাপদ সেটাই হলো প্রশ্ন! যারা সরাসরি বাগান থেকে বা কৃষকের কাছ থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারেন তারা হয়তো নিরাপদ কিংবা ফরমালিনমুক্ত ফল খেতে পারেন। কৃষকের কাছ থেকে ব্যবসায়ী বা মধ্যস্বত্বভোগীর হাতে পৌঁছামাত্রই দেশীয় ফলগুলো আর নিরাপদ থাকে থাকে না। অনেকে ফল পাকানো এবং বেশি দিন টিকিয়ে রাখার জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশায় যা খেলে মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি হয়। দেশীয় ফলে ভেজাল মেশানো রোধে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ উভয়েরই সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
কামরুজ্জামান
শ্রীপুর, গাজীপুর
অসাধু ফল ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ব ফলমূল ফরমালিন মিশ্রিত করে পাকিয়ে তা বাজারজাত করছে এবং মানুষ তা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গাছ থেকে ফল পাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা মানতে হবে বাগান মালিকদের। ফলমূল বিষমুক্ত, না বিষযুক্ত তা জেনে বুঝে খাওয়া উচিত।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
আমরা নানা স্থান থেকে ফল ক্রয় করছি, কোনটা কেমিক্যালমুক্ত বা কেমিক্যালযুক্ত তা আমরা জানি না। মৌসুমের ফল দেখেই ক্রয় করতে আমরা অনেকেই ব্যস্ত। আমরা কি বিষ খাচ্ছি, না অন্যকিছু খাচ্ছি—তা বোধগম্য নয়। ফলে কেমিক্যাল মেশানোর বিষয়ে নজরদারি অবশ্যই বাড়াতে হবে।
মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন
হাইমচর, চরভৈরবী
আম, জাম, লিচু, কাঁঠালসহ বেশ কিছু মৌসুমি ফল বাজার ছেঁয়ে গেছে। এসব ফলের বেশিরভাগ কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাজারের পরিবশে এবং ফলের মানের দিকে মনোযোগী হতে হবে।
মো. মেসবাউদ্দিন সেলিম
ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা
ক্রেতা সাধারণরা কোনো যাচাই-বাছাই না করে হরহামেশাই ফল কিনে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। এ বিষয়ে আমাদের সচেতনতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
অ্যাডভোকেট রবিউল হোসেন রবি
পুরানা পল্টন, ঢাকা
প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় শহরে মধুমাসের ফল আসছে। এসব ফলে মেশানো হচ্ছে বিষ। বিষ মেশানো এসব ফল বিক্রি হচ্ছে সারা দেশের শহরে, বন্দরে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বিষ মেশানো ফল খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। নিরাপদ খাদ্যের জন্য অবশ্যই কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
ভেজাল শুধু মৌসুমি ফলেই নয়, সবকিছুতেই ভেজালের রমরমা বাণিজ্য চলছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জনশক্তি ও কর্মপরিধি অবশ্যই বাড়াতে হবে।
বজলুল করিম
ধানমন্ডি, ঢাকা
ফল ও খাদ্যদ্রব্যে বিষ প্রয়োগকারীদের বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার হতে হবে।
খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান
নাজিমুদ্দিন রোড, ঢাকা
বর্তমানে আম, কাঁঠাল, লিচু তরমুজ, বাঙ্গিসহ বেশ কিছু মৌসুমি ফলে মেশানো হচ্ছে বিষ। বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর কারণে ফলে পুষ্টি ও স্বাদ কোনোটাই পাওয়া যাচ্ছে না। জনগণকে এ বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
জ্যৈষ্ঠ মাস ফলের মাস। আম, কাঁঠাল, জাম, লিচুসহ অন্যান্য ফল বাজারে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা ফলের মধ্যে বিষ প্রয়োগ করছে যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
প্রহরী মনিরুজ্জামন
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ