করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) উত্স খুঁজে বের করার জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত বুধবার এক বিবৃতিতে বাইডেন গোয়েন্দাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করে ৯০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের দূতাবাস বলেছে, করোনার উত্স খোঁজা নিয়ে রাজনীতি হলে তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের শহর উহানে কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হয়। বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৭ কোটি মানুষ এবং মারা গেছেন অন্তত ৩৫ লাখ। খবর সিএনএন ও বিবিসির।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাস ছাড়ানোর সম্ভাবনা কম। বরং প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তখন এই প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের সরকার।
গত মার্চে জো বাইডেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারির মূল উত্স খুঁজে বের করে একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন তৈরি করতে। কোনো প্রাণী থেকে, নাকি গবেষণাগারে দুর্ঘটনা থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়াই ছিল এ প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির কয়েক জন গবেষক ২০১৯ সালের নভেম্বরে হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। এই তথ্য সামনে আসায় করোনার উত্স খুঁজে বের করার জন্য বাইডেন প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বাইডেন জানান, তিনি প্রতিবেদনটি এ মাসের শুরুর দিকে হাতে পেয়েছেন। কিন্তু তিনি আরো গভীরভাবে বিষয়টিকে তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ প্রসঙ্গে মূলত দুটি সম্ভাব্য ঘটনাপ্রবাহের ব্যাপারে (প্রাণীর সংস্পর্শ অথবা গবেষণাগারের দুর্ঘটনা) একমত হয়েছে। কিন্তু কোনটি মূল কারণ, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। যে কোনো একটি ঘটনাপ্রবাহের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ এখনো তাদের হাতে নেই।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক আন্তর্জাতিক তদন্ত করার জন্য চীন যাতে তাদের সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে একত্রিত হয়ে চীনের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে।
জো বাইডেনের এই নির্দেশের পর যুক্তরাষ্ট্রে চীনের দূতাবাস জানিয়েছে, করোনার উত্পত্তিস্থল খোঁজা নিয়ে রাজনীতি হলে তা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে তা মহামারি প্রতিরোধে বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং দোষারোপের খেলা খেলতে কিছু রাজনৈতিক শক্তি জোট বেঁধেছে। উহানের ল্যাবকে দায়ী করার অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ মহামারি প্রতিরোধে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, কোভিড-১৯-এর উত্স খুঁজতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বিতীয় দফায় অনুসন্ধান শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়ায় তদন্তকারীদের আরো বেশি সুযোগ দেওয়া নিয়ে চাপে রয়েছে চীন।