পাকিস্তানে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের মধ্যেই দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে দেশটির সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তাদের অধিকাংশেরই ধারণা, করোনার এই সংকটের মাঝে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এতটা বেশি অবাস্তব। সরকার এই মিথ্যা সংখ্যা দিয়ে প্রতারণা করছে। অবশ্য কিছু লোক সরকারের ওপর বিশ্বাস রাখছেন।
পাকিস্তান টুডের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি সাধারণ মানুষ তাদের রাজনৈতিক যুক্তির ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক সূচকের বিষয়ে মন্তব্য করছেন। যদিও তাদের প্রযুক্তিগত যুক্তির ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা উচিত। মাত্র গুটিকয়েক লোক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কথা বলছে।
অন্যদিন, গণমাধ্যমটির এই প্রতিবেদক এক নাপিতের দোকানে যান। তখন ওই নাপিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই সংখ্যাকে অতিরঞ্জিত উল্লেখ করে বলেন, দুর্বলতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং লকডাউনের মাঝে জিডিপির যে সংখ্যা দেখানো হচ্ছে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই সংখ্যা প্রতারণা ছাড়া অন্য কিছু নয় এবং তা বাস্তবতার বাহিরে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ৩.৯৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি উদ্বেগজনক হলেও প্রযুক্তিগতভাবে তা মোটেই অতিরঞ্জিত নয়। কারণ, জাতীয় অ্যাকাউন্ট কমিটির (এনএসি) ব্যবস্থাপনায় তথ্য এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পূর্ববর্তী বছরের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করে বাৎসরিক জিডিপি হিসাব করা হয়। প্রত্যেকেই জানে যে, বিগত অর্থনৈতিক বছরে লকডাউনের কারণে পাকিস্তানের অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে গিয়েছিল এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি ০.৪ শতাংশ হ্রাস পায়। সেটির কারণে বর্তমানে দেশটির অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। অধিকাংশ খাত নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি বছরে কৃষিখাতেও ব্যাপক ফলন হয়েছে। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করার জন্য এগুলো হচ্ছে প্রাথমিক ইস্যু। প্রায় প্রতিটি খাতই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
ইত্তেফাক/টিএ