লেভ তলস্তয়ের ‘পুনরুজ্জীবন’ উপন্যাসের নেখলিউদভ ও কাতিউশার তুষার ধবল প্রণয়ের সাক্ষী হয়েছিল নির্বাক লাইলাক ফুল। লাইলাক ফুলের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় তিরিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডবদের কবিতা পড়তে পড়তে। লাইলাক ফুল কি কখনো দেখেছি? মনে পড়ে না। কিন্তু আর্টিফিশিয়াল লাইলাক যে কারো দৃষ্টিতে পড়বে আর্টিফিশিয়াল ফুলের দোকানে। লাইলাক বসন্তের ফুল হলেও মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ফোটা শুরু হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে সব ফুল ঝরে যায়। লাইলাক হলো মে মাসের ফুল। মাত্র এক মাসেই সবার মন ভোলায়। মন মাতানো সুগন্ধের জন্য লাইলাক বিশিষ্টতা অর্জন করেছে, মন কেড়েছে কবি-সাহিত্যিকদের। টি এস এলিয়ট ছিলেন লাইলাক ফুলের তীব্র অনুরাগী।
লাইলাক ফুল সাধারণত চার পাপড়ির হয়। গাঢ় বেগুনি, ল্যাভেন্ডার, নীল, গোলাপি ও শাদা রঙের হয়ে থাকে। গ্রীক মিথলজিতে উল্লেখ আছে যে, এক সুন্দরী নারী এক দেবতার কাছ থেকে রক্ষা পেতে নিজেকে লাইলাক ফুলে পরিণত করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে ‘স্টেট ফ্লাওয়ার’ এই ফুলটি। বিশ্বের নানা জায়গায় বার্ষিক লাইলাক উত্সব পালিত হয়। আমেরিকায় মে মাসে পালন করা হয় লাইলাক সানডে। লাইলাকের জন্ম ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ায়। তবে যে কোনো উষ্ণ এলাকায় লাইলাকের চাষ হতে পারে।
সুপ্তি জামান